হোম > জাতীয়

চড়া দাম দিয়েও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহক

এম এ নোমান

রাজধানীর উপকণ্ঠে সুপরিচিত জনপদ ধামরাই। শিল্প-কারখানা যেমন আছে, তেমনি আছে ঘনবসতিও। ঢাকা জেলাধীন এই ধামরাই পৌরসভার পাঠানতোলা এলাকার অধিবাসী ওয়াদুদুর রহমান খানের জীবন চলায় কোনো কিছুর অভাব নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার পরিবারের সদস্যদের জীবন একরকম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎ সংকটে। বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি আর অসহনীয় ভোগান্তিতে তার পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ক্ষুব্ধ ওয়াদুদুর রহমান বলেন, আমরা সাধারণ নাগরিক রেকর্ড পরিমাণ বিল পরিশোধ করেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। কোনো কোনো দিন এর চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

ধামরাইয়ের ওয়াদুদুর রহমানই শুধু নন, রাজধানী ঢাকার বাইরে অধিকাংশ গ্রাহকের একই অবস্থা। ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুতের এমন আসা-যাওয়ার খেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধস নেমেছে শিল্প উৎপাদনেও। চড়া দাম দিয়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। ঢাকা শহরকে সরকার আলোকিত রাখলেও অন্ধকারে দেশের বিস্তৃত এলাকা।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের পানদাগ এলাকার আবদুল হান্নানের অভিজ্ঞতা আরো ভয়াবহ। আমার দেশকে দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ এখন আমাদের জন্য অনেকটা সোনার হরিণের মতো।’

তিনি বলেন, মে মাসে বিদ্যুতের বিল দিয়েছি এক হাজার ২০০ টাকা। জুন মাসে বিল এসেছে দুই হাজার ৯০০ টাকা। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার মধ্যে ভৌতিক বিল নিয়ে বিড়ম্বনার কথাও জানান হান্নান।

ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের পেঁয়াজচাষিরা জানিয়েছেন, সরকারের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতায় এবার তাদের এলাকায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে মারাত্মক লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে এয়ারফ্লো মেশিনগুলো দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকায় সেসব পেঁয়াজ এখন নষ্ট হচ্ছে।

তারা জানান, তাদের এলাকায় বর্তমানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র তিন-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। এভাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা আদৌ সম্ভব নয়। একই অভিযোগ করেন মুন্সীগঞ্জ, রংপুর ও চাঁদপুরসহ কয়েকটি জেলার আলুচাষিরা। তাদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ে কোল্ড স্টোরেজগুলোয়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সার্বক্ষণিক কোল্ডস্টোরেজ চালু রাখতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় কয়েকগুণ বাড়ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

আমার দেশ-এর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে জানা যায়, ঘনঘন লোডশেডিংয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। দিনে প্রচণ্ড গরম আর রাতে অন্ধকারে তারা ঠিকমতো লেখাপড়া করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। আবার গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমনকি পরীক্ষার সময় কেন্দ্রগুলোয়ও লোডশেডিং আতঙ্কে থাকছেন অভিভাবক ও কেন্দ্রপ্রধানরা। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। জনজীবনে নাভিশ্বাস নামার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, তিন থেকে চারগুণ বেশি বিল আসা এবং অসুস্থ হওয়ার অভিযোগও করেছেন বিভিন্ন এলাকার গ্রাহক।

বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনা ও বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারাকেও দায়ী করছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বর্তমান সরকার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেও বিগত সরকারের রাঘববোয়ালদের কাছে নতি স্বীকার করেছে। আগের সরকারের সময় যে সিন্ডিকেট বিদ্যুৎ খাত নিয়ন্ত্রণ করত, তারাই এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে। প্রমাণ থাকলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে অভিযোগ তাদের।

জ্বালানি সংকটে অতিরিক্ত লোডশেডিং এবং বাড়তি বিল আসার কথা স্বীকার করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরাও। তাদের মতে, সাড়ে ১৫ বছর ধরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে গেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। খাতটিকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করেছে লুটপাটের জন্যই। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বকেয়া রেখে গেছে, যার দায় বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর পড়েছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তারা। পাশাপাশি বাড়তি বিলের বিষয়টি স্বীকার করে তা প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

রেকর্ড দামে বিদ্যুৎ

গত ৪ জুন ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম রেকর্ড প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। পাইকারি পর্যায়ে বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। খুচরা পর্যায়ে মধ্যবিত্ত পরিবার যে ধাপে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, সেই চতুর্থ ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। নিম্নচাপের (এলটি) বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের সাত ধাপের গড় বৃদ্ধির হার ১৮ দশমিক ২১ শতাংশ। বিদ্যুতের এ দাম বাড়ানোর আগে আয়োজিত গণশুনানিতে সরকার ভোক্তাদের কাছে অঙ্গীকার করে বলেছিল, বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় আর বিক্রির মধ্যে বিশাল ফারাক। সরকারকে এখন বিপুল অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। দাম বাড়ানো হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকার বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ালেও অনেক গ্রাহক যে বিলের কপি পেয়েছেন, তাতে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণের বেশি। তাছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ তো দূরের কথা, লোডশেডিংও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি সুরাহা করতে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, সারা দেশের জেলা প্রশাসক এবং বিদ্যুৎ বিতরণী সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত এক সভায় অস্বাভাবিক বিলের কারণ উদ্ঘাটন এবং লোডশেডিং নিয়ে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে আমার দেশকে নিশ্চিত করেন বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা।

অলস পড়ে আছে ৬৬ ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আমার দেশকে জানিয়েছেন, দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৬৬ ভাগ কেন্দ্র অলস পড়ে আছে। সরকারের দেওয়া হিসাবমতে, ৩০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে এখন জাতীয় সঞ্চালন লাইনে (ন্যাশনাল গ্রিড) প্রতিদিন যোগ হচ্ছে মাত্র ১১ থেকে সাড়ে ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট। উৎপাদনে না থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কোনো কোনোটিকে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিদেশি ঋণের মোটা অঙ্কের সুদের টাকা গুনতে হচ্ছে সরকারকে।

বিদ্যুৎ বিভাগ, পাওয়ার সেল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসিসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, এক অর্থবছরেই পিডিবিকে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট হিসেবে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ নিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। এ খাতের সাত হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রাখতে হচ্ছে গ্যাসের অভাবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা সাড়ে সাত হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। কয়লার জোগানের অভাবে এ খাতের দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে না। অন্যদিকে তেলভিত্তিক (এইচএফও) ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে সাড়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত ও ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎসহ বর্তমানে ১৩-১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বর্তমানে গ্রাহক চাহিদার চেয়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট কম। ওই জ্বালানি সংকট চলমান থাকলে বিদ্যুতে ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

কর্মকর্তারা বলেন, জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। বিদেশি অর্থায়নে করা কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য উৎপাদনে না গিয়েই সরকারকে চার্জসহ কিস্তির বিপুল অর্থ পরিশোধের দায় নিতে হচ্ছে।

এ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মূল এজেন্ডা বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল না। তাদের পরিকল্পনাই ছিল এ খাত থেকে অর্থ লুট করা। এটি তারা বেশ সফলভাবে করতে পেরেছে। রাজনৈতিক কারণে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য জ্বালানি জোগানোর ব্যবস্থা না করে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য অসম চুক্তি করে গেছে। এগুলো সবই দেশবাসীর জন্য গলার কাঁটা। গত ১৮ বছর দেশে নতুন করে গ্যাস কূপ অনুসন্ধান বন্ধ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে মূলত আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রিতে বিশাল ফারাক

বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রির মধ্যে বিশাল ফারাকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ পড়ছে ১১ দশমিক ৮৩ টাকা, আর পাইকারি বিক্রয় মূল্য ছিল ৬ দশমিক ৯৯ টাকা। ওই অর্থবছরে এক লাখ ১১৮৭ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। প্রতি ইউনিটে ৫ দশমিক ৯৯ টাকা হারে ঘাটতির কারণে বিপুল লোকসান দিতে হয়েছে। বর্তমানে এ ঘাটতির পরিমাণ আরো বেশি।

পিডিবির দেওয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দেশের ৫০টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১২ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াট। যা মোট উৎপাদন ক্ষমতার ৪৩ শতাংশ। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৫৪ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৯ শতাংশ, ডিজেলচালিত পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা তিন শতাংশ, কয়লাচালিত আট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২২ শতাংশ, একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ শতাংশ, সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের ১৭টি কেন্দ্রের ক্ষমতা তিন শতাংশ এবং আমদানি করা হচ্ছে ৯ শতাংশ (প্রায় হাজার মেগাওয়াট)।

সূত্র জানায়, গ্যাস দিয়ে উৎপাদনে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়েছে ৭ দশমিক ০৯ টাকা, কয়লায় ১৩ দশমিক ২০ টাকা, ফার্নেস অয়েলে ২৭ দশমিক ৩৯ টাকা, ভারতের আদানির বিদ্যুৎ আমদানিতে ১৪ দশমিক ৮৬ টাকা এবং সৌর বিদ্যুতের দাম পড়েছে ১৫ দশমিক ৪৬ টাকা।

ফার্নেস অয়েলের দামের বিষয়ে পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিপিসির কাছে থেকে তেল কিনে বিপুল পরিমাণ লোকসান দিচ্ছি। আর তারা আমাদের কাছে তেল বিক্রি করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লাভ করেছে ৪৩১৬ কোটি টাকা।

সরকারের ব্যর্থতা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশে জ্বালানির ব্যবস্থা না করে বিদ্যুৎ খাতকে উচ্চমূল্যের তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে তোলা হয়েছে। যার খেসারত এখন এ সরকারকে দিতে হচ্ছে। এ খাতকে ওই সময় মূলত লুটপাটের খাতে পরিণত করা হয়েছিল বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান সরকার এ খাতকে দুর্নীতির বাইরে আনতে পারছে না বলেও অভিযোগ এ খাতের বিশেষজ্ঞদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার দুর্নীতিবাজদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলেও অভিযোগ তাদের।

শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে এ দুই খাতে এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, যা দিয়ে ৩-৪টি পদ্মা সেতু তৈরি করা যেত। এই দুর্নীতি মূলত হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমিশন এবং কেন্দ্র ভাড়া ও অতিরিক্ত মুনাফা এই তিনটি খাতে।’

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম আমার দেশকে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বিগত সরকার অর্থ লুটের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের আমলা, রাজনীতিবিদ, দেশি-বিদেশি অনেক সুবিধাভোগী এবং ওই সরকারের ঘনিষ্ঠরা এ লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। সরকার পরিবর্তন হলেও নিয়ন্ত্রক ও ব্যবস্থাপনা আগের অবস্থাতেই রয়েছে। তাদের বহাল রেখে কোনোভাবেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারার জন্য সরকারকে দায়ী করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম আরো বলেন, আমরা লিখিতভাবে বহু নথিপত্র সরকারের কাছে পেশ করেছি। সরকার এখন পর্যন্ত একটি মামলা কিংবা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগও আনতে পারেনি। এটাকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

হাসিনার সৃষ্ট সংকট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য পুরোপুরি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। আমার দেশকে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরে মোট খরচ করা হয়েছে ২৮৩০ কোটি ডলার। বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় তিন লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। ক্যাপাসিটি চার্জে লুটপাট হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি। বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া রেখে পালিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। এখন এর পুরো দায় আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর এসে পড়েছে। আমরা এখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি।

মন্ত্রী বলেন, সবকিছুর মূলে রয়েছে আমাদের জ্বালানি সংকট। জ্বালানির অভাবে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন উচ্চমূল্যের জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি চালু রাখতেও অনেক টাকার প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমরা চেয়েছি, জনগণকে একটু স্বস্তি দিতে।

গ্যাস উত্তোলনে সরকারের বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ রয়েছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি খাতকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার। আমরা আবার দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এগুলোর ফল আসতেও আমাদের তিন থেকে চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। সেই পর্যন্ত উচ্চমূল্যের জ্বালানি আমদানি করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। এজন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রারও প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ল্যান্ডিং গিয়ার উত্তোলন সমস্যায় নভোএয়ারের জরুরি অবতরণ

সুখরঞ্জন বালী গুম: সাবেক এএসপি ফজলুর কারাগারে

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বরাদ্দ ১৩ শতাংশ বেড়েছে: ইউজিসি

চার খলিফার নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন, গা জ্বলছে ভারতের

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনি সংস্কারের তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর

অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় প্রয়োজন সত্য সাংবাদিকতা

‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশকে ভালোবাসেন?’ সোমা ইসলামের প্রশ্ন

উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অবাধ মাছ আহরণ নিশ্চিত করবে সরকার

দেশে থামছেই না হামের প্রকোপ, প্রাণ গেল আরো ৫ শিশুর

খামেনির কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে ১১ দলের প্রতিনিধিদের মোনাজাত