বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ উপলক্ষে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, আলোচনা সভা ও নজরুলসংগীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে সেখানে ফাতেহা পাঠ করা হয়।
পরে কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর স্মারক বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম সালেকীন।
আলোচনা সভায় জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। তার রচনা সমাজের বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা জোগায়।
তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম থেকে সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজীও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন।
এদিকে, জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ায় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কবির জীবন, সাহিত্য, সংগ্রাম ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এসআর