দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের অর্থ। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩নং দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, কেবল জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে এলাকার সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের জোরালো ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সবসময় সহায়তা করে। নাগরিকেরা ভুলত্রুটি ধরিয়ে না দিলে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নানা কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হেনস্তা করার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও কোনো অবস্থান নেওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার ও সামাজিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
শৈলকূপার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। দিগনগর ইউনিয়নেও বিভিন্ন নতুন সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্তির আওতায় এসেছে। এসব সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে উপজেলার সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, শৈলকূপার উন্নয়নে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার কৃতী সন্তান ও পেশাজীবীরা এলাকার উন্নয়নে জোরালো অবদান রাখতে পারেন।
দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহির সংস্কৃতি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩নং দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ সময় শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিক ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।