রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার রাত ৯টা ২৮মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
রিখটার স্কেলে এর মাত্র ছিল ৪ দশমিক ০। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায়; ঢাকার আগারগাঁও থেকে এর দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার (পূর্বে)।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক রুবাইয়াৎ কবীর আমার দেশকে বলেন, উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে খুব কাছে হওয়ায় মানুষের কাছে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে অনুভূত হয়েছে। এটা স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প; এ ধরনের মৃদু ভূমিকম্প প্রতিনিয়ত পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে হয়ে থাকে। এনিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর কেন্দ্র ছিল ভূ–পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কম্পন অনুভূত হওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।
রাতে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ব প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী আমার দেশকে বলেন, উৎপত্তিস্থল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ আর নরসিংদীর হাশিমপুর প্রায় একই এলাকা। ঢাকা থেকে খুব কাছে হওয়ায় শক্তিশালী বলে অনুভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। গত বছর তো পরপর সাত-আট বার এ ধরনের মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। এবার দেখা যাক কী ঘটে। তবে আমাদের তো প্রস্তুতি নেই। আমরা বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির কথা বলে আসছি। সরকার তো তা শুনছে না, কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমতাবস্থায় বড় মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হলে ম্যাসাকার হয়ে যাবে, দেশের বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাবে। ফলে সরকারের উচিত এ বিষয়ে এখনই যথাযথ ভূমিকা নেওয়া। ১০০-১৫০ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে বড় কোনো ভূমিকম্প হয়নি। ফলে ছোট ছোট ঝাঁকুনিগুলোকে সাধারণ বিষয় মনে হলেও আমাদের বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে।
এএস