হোম > জাতীয়

৯ জেলায় ম্যালেরিয়া সংক্রমণ, উচ্চ ঝুঁকিতে ৩ জেলা

আমার দেশ অনলাইন

ফাইল ছবি

৩১০ কোটি টাকার বেশি গত ছয় বছরে ম্যালেরিয়াবাহী মশার পেটে গেছে । বিপুল পরিমাণ এ অর্থব্যয়ের পরও রোগটি নির্মূলে সুখবর নেই। সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দুদেশÑভারত ও মিয়ানমারের অসহযোগিতা, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যাওয়া, মশার জীবাণুর ধরনে পরিবর্তনে এখনো প্রতি বছরই প্রাণ কাড়ছে মশাবাহিত রোগটি। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মূল অনেকটা অসম্ভব বলে মনে করছেন খোদ নির্মূল কর্মসূচির সঙ্গে জড়িতরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো রোগ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে নির্মূল অনেক বেশি কঠিন। নির্মূল করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রিত এলাকায়ও অন্তত ১০ শতাংশ পরীক্ষা করতে হচ্ছে। এতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি জরুরি ছিল সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের প্রত্যক্ষ সমন্বয়। কিন্তু প্রতি বছর দেশগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে বৈঠক হলেও পরিকল্পনা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে, যা বাংলাদেশের ম্যালেরিয়া নির্মূলে প্রধান বাধা। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, একক কোনো ব্যবস্থায় নয়, ম্যালেরিয়া নির্মূলে প্রয়োজন সমন্বিত জোরালো পদক্ষেপ। গতানুগতিক ধারায় চললে আগামী দুদশকেও নির্মূল সম্ভব নয়।

এখনো ৯ জেলায় সংক্রমণ, তিন জেলা উচ্চ ঝুঁকিতে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, পার্বত্য তিন জেলায় ২০১০ সাল থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত ছিল। এরপর ২০২৩ সাল পর্যন্ত সংক্রমণের চিত্র বদলায়নি। অবশ্য গত বছর থেকে আবারও কমতে শুরু করেছে। তবে মৃত্যু বাড়ছে।

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির তথ্যমতে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়ার উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে গত বছর ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কুড়িগ্রাম এ চারটি জেলাকে ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করা হয়। বাকি ৯ জেলার মধ্যে ছয় জেলাÑসিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।

২০১৯ সালে পার্বত্য তিন জেলাÑরাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তখন সবচেয়ে বেশি প্রকোপ ছিল বান্দরবানের থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায়। ওই বছর দেশে ১৭ হাজার ২২৫ জন আক্রান্ত হয়, মারা যান ৯ জন। যার ৯৫ ভাগই ছিল পার্বত্য তিন জেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৮ শতাংশ ছিল বান্দরবানে।

২০২০ সালে ছয় হাজার ১০৪ জন আক্রান্তের পাশাপাশি মারা যায় সাতজন, ২০২১ সালে সাত হাজার ২৯৪ জন আক্রান্তের বিপরীতে মারা যায় ৯ জন। কোভিড মহামারির কারণে ওই দুই বছর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পেয়েছিল। কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর পুনরায় বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। এর মধ্যে ২০২২ সালে ১৮ হাজার ১৯৫ জন, ২০২৩ সালে ১৬ হাজার ৫৬৭ জন। গত বছর ১৩ হাজার ১০০ জন আক্রান্তের পাশাপাশি মারা যায় ৯ জন। আর চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৫৯১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।

ছয় বছরে মশার পেটে ৩১০ কোটি টাকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ থেকে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ছয় বছরে ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচিতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ৩৭৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ ২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। একই সময়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) উন্নয়ন সংস্থা গ্লোবাল ফান্ড টু ফাইট এইডস দিয়েছে ২০৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বরাদ্দ ছিল ৬০৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে খরচ হয়েছে অর্ধেকের বেশি, ৩১০ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচিতে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১০ শতাংশ প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনারসহ কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলে যায়। বাকি ৯০ ভাগ যায় শনাক্তকরণ কিট, চিকিৎসার ওষুধ, ইনজেশন, মশারিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে। আর গ্লোবাল ফান্ডের দেওয়া অর্থের ৮০ ভাগ যায় এ খাতে।

বরাদ্দের ১০-১৫ শতাংশ চলে যায় কর্মকর্তাদের পকেটে

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্লোবাল ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থের ২০ শতাংশ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়। যেখানে অন্তত ১০ শতাংশ চলে যেত লাইন ডিরেক্টর, কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার আর ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজারের পকেটে। সংস্থাটি ৮০ ভাগ অর্থ সরাসরি বাংলাদেশকে না দিয়ে কিট, ওষুধসহ চিকিৎসা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ে সরাসরি যুক্ত থাকে। ফলে সেখানে অনিয়মের সুযোগ নেই। তবে সরকারি বরাদ্দের কেনাকাটায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশনের মাধ্যমে কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হতো।

কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত সাবেক দুজন কর্মকর্তা জানান, প্রতি অর্থবছরের শেষ সময়ে বরাদ্দ অবশিষ্ট থাকলে সেটি কীভাবে ব্যয় করা যায়, তা নিয়ে সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখান লাইন ডিরেক্টর থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ফলে প্রশিক্ষণ, সভা না হলেও ভুয়া বিল তৈরি অর্থ আত্মসাতের বহু ঘটনা রয়েছে। অতীতে যারাই এসব পদে ছিলেন প্রত্যেকই এসব অনিয়মে জড়িত বলেও জানান ওই কর্মকর্তারা।

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ৯২১৯৬ প্রবাসীর নিবন্ধন

ম্যালেরিয়াবাহী মশার পেটে ৩১০ কোটি টাকা, সুখবর নেই নির্মূলে

ন্যায়বিচার নির্ভর করে বিচারকের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর

এখনো সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া, উদ্বিগ্ন দেশবাসী

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

রাষ্ট্রসংস্কার কী সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকাবুলি—প্রশ্ন টিআইবির

সৃষ্টিকর্তার কৃপায় খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন: অপর্ণা রায়

খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনা করেছেন সাইফুল হক

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব না পড়লেও বাধাগ্রস্ত করছে শীতের আগমনে

ইন্টারপোলের সম্মেলন থেকে দেশে ফিরলেন আইজিপি