হোম > জাতীয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে বিলম্বের কারণ জানালেন মন্ত্রী

আমার দেশ অনলাইন

বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া এক লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের ১নং ইউনিটের নিরাপত্তা ভালভে বারবার ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের মধ্যে এটি মেরামত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও দেখছেন না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাশিয়া ও বাংলাদেশের প্রকৌশলী এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞরা। নির্ধারিত সময়ে ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরাও।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাবনার রূপপুরে নির্মিত এ প্রকল্পের নামে রাশিয়া সরকারের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা এখন নতুন সরকারের ঘাড়ে এসে পড়েছে। রাশিয়ার দেওয়া মূল ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হচ্ছে কয়েক মাসের মধ্যেই।

কর্মকর্তারা জানান, গত আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাশিয়ার পারমাণবিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে চলতি সেপ্টেম্বরে কমিশনিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তবে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এটি কবে উৎপাদনে যাবেÑসে বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। চলতি বছরে উৎপাদন শুরু হবেÑএমনটাও বলা যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা ভালভ বিকল হওয়ার পর রিঅ্যাক্টর ও ভালভ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের প্রকৌশলী ও কারিগরি টিম এনে দুই সপ্তাহ ধরে চেষ্টার পরও সেটি ঠিক করা সম্ভব হয়নি। ফলে দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা ভালভটি প্রথম ইউনিটে স্থানান্তর করে এটি চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এতে বাংলাদেশ এখনো সম্মতি দেয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দ্বিতীয় ইউনিটের নিরাপত্তা ভালভ প্রথম ইউনিটে স্থানান্তরের ফলে ঠিকমতো কাজ না করলে জটিলতা আরো বাড়বে। তখন পুরো প্রকল্পের ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাছাড়া প্রথম ইউনিট চালু করার বিষয়ে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবও পাওয়া যায়নি বলে জানান তারা।

রাশিয়ার ঋণে এবং দেশটির কারিগরি সহায়তায় ২০১১ সালে দুই ইউনিটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রকল্প নেয় পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে গঠিত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল। পরে আরো দুই দফায় সময় বাড়িয়ে এর মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও দেশে বর্তমানে ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যেই। আদানিসহ ভারতের আরো কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আরো ২,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। বিপুল উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। প্রতিদিন ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াটের মতো ঘাটতি থাকছে। শহরে বিদ্যুৎ কিছুটা মিললেও গ্রামে হাহাকার অবস্থা। শিল্প উৎপাদনেও ধস নেমে এসেছে। কোনো কোনো জেলা ও উপজেলা সদরে চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে। এ অবস্থায় ভরসা জাগিয়েছিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ধাপে ধাপে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে স্বস্তি মিলবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

গত ২৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য ইউরেনিয়াম বান্ডেল লোড শুরু হয়ে শেষ হয় ১২ মে। ওই দিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি প্রবেশ করানো হয়েছে। এই কাজে প্রাথমিক কোর লোডিং কর্মসূচি, পরিচালনাগত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে চুল্লিপাত্রের ওপরের অংশ স্থাপন ও প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। এরপর সব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে অসংখ্যবার পরীক্ষা করা হবে বলেও জানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঘোষণার পর ১২ জুন পাবনার ঈশ্বরদীতে উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত গোলটেবিল আলোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আগস্টের শেষদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ১,০০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্রের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন আর নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না’। তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হয়। এ পর্যায়ে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য ছিল। বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা চালিয়ে এখন ‘বি’ স্টেজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুটি সেফটি ভালভের সমস্যার কারণে পরবর্তী ‘সি’ স্টেজে যাওয়া যাচ্ছে না।

কবে নাগাদ সেফটি ভালভের মেরামত শেষ হবে এবং প্রথম ইউনিটের কমিশনিং শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না। সেফটি ভালভ কেন কাজ করছে না, সেটি নির্ধারণের জন্য রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সমস্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ভালভ দুটি পুরোপুরি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে দুটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। একটি হলো দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য বরাদ্দ থাকা ভালভ নিয়ে প্রথম ইউনিটে বসানো। আরেকটি হলো রাশিয়ার ভেন্ডরকে দ্রুত নতুন ভালভ তৈরি করে সরবরাহের জন্য বলা। দ্রুত এবং সময়োপযোগী যেটা, সেটিই করা হবে বলে জানান প্রযুক্তিমন্ত্রী।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরো ৫১২ জন

চট্টগ্রাম বন্দর ইজারায় অর্থনীতি-নিরাপত্তায় ঝুঁকির শঙ্কা

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে

খামারিদের জন্য সুখবর, আসছে দেশীয় এলএসডি টিকা

তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের ল্যান্ডিং স্টেশন পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন

‘১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ’ সংক্রান্ত খবরের বিষয়ে যা বলছে পুলিশ

চোরাচালান রোধে শাহজালাল বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি

সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব নিয়ে সংসদে বাহাস

আইনসভায় বিল দেরিতে আসায় ডেপুটি স্পিকারের অসন্তোষ

কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান