মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের গতি যেন ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন, তার এই অভিযান চাঁদাবাজি বা জমি দখলের জন্য নয়; যুবসমাজকে ধ্বংসকারী মাদকের মূল হোতাদের বিরুদ্ধেই এই যুদ্ধ।
এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি জমি দখল করতে যাইনি, চাঁদা উঠাতেও যাইনি; গিয়েছি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। কিন্তু মূল সমস্যা চিহ্নিত না করে পুরো ঘটনাকে মিডিয়ার মাধ্যমে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দেশের জন্য যে কাজগুলি করে চলেছেন, সেখানে আমার কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে যাতে সরকারের সাফল্য ঢাকা না পড়ে বা ম্লান না হয়ে যায়, এবং আমার দল যাতে কোনোভাবে বিব্রত না হয়—সেজন্য আমি পদত্যাগ করতে চাই।’
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, পদত্যাগ করলেও মাদকের বিরুদ্ধে তার লড়াই থামবে না। তিনি বলেন, ‘আমার এই মাদকবিরোধী অভিযান কেবল শুরু হলো, এটি চলমান থাকবে। রাস্তায় থাকা খুচরা বিক্রেতা নয়, বরং মাদকের মূল সাপ্লায়ারদের যতক্ষণ পর্যন্ত আইনের আওতায় এনে চিহ্নিত করা না যাবে, ততক্ষণ এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, মাদকের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সহযোগিতার বদলে তার অভিযানকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করা হয়েছে। তবে সব অপপ্রচারের মুখেও সমাজের সুরক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে তিনি অনড় থাকবেন বলে জানান।