৮২ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে: এনসিটিবি
নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথমদিনেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে বেশ আনন্দিত। স্কুলে স্কুলে দলবেঁধে বই হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। প্রাথমিকের সব বই এবং মাধ্যমিকে ঐচ্ছিক কিছু বাদে সব বই হাতে পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
গতকাল সরেজমিন কয়েকটি স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পেয়েছে। দুয়েকটি বাদে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরাও বই পেয়েছে। দুপুরে কেরানীগঞ্জের ইমামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই নিয়ে স্কুলের বারান্দায় দলবেঁধে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। এ সময় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাফান্নুম তায়্যিবা নতুন বই পেয়ে বলেন, বছরের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। তার সহপাঠী নিঝুম, জান্নাতুল একই ধরনের আনন্দ প্রকাশ করেন।
একই এলাকার আমবাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাহারা খাতুন বলেন, বছরের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পাওয়া কী যে আনন্দের বিষয় তা বলে কাউকে বোঝানো যাবে না।
তবে বৃহস্পতিবার নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা আমার দেশকে বলেন, প্রাথমিকের সব বই পেলেও মাধ্যমিকের সব বই পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণির কোনো বই পায়নি, ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির বেশ কিছু বই বাকি আছে। যেসব বই পেয়েছি তা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত।
এ প্রসঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. রিয়াদ চৌধুরী বলেন, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের জন্য সারা দেশের স্কুলগুলোতে মোট চাহিদা ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টির মধ্যে ২৪ কোটি বই সরবরাহ করা হয়েছে। অর্থাৎ ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ বই আমরা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছি। মাধ্যমিকের ঐচ্ছিক কিছু বাকি আছে তাও চলতি মাসের মাঝামাঝিতে হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা।
বই বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা
রাজধানীর আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। এ বইগুলোর মান আগের তুলনায় ভালো।
উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একটি অভিভাবক নির্দেশিকা বই প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা খুব শিগগিরই আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে উপদেষ্টা আরো বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশুদের স্বাক্ষর করে তোলা। প্রাথমিক স্তরে যদি আমরা শিশুদের সঠিকভাবে পড়তে শেখাতে পারি, তাহলে পরবর্তীতে তারা পড়ার মাধ্যমে শিখতে সক্ষম হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে যদি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তা উচ্চতর স্তরের শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বই বিতরণ কার্যক্রমে বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মাসুদ রানা এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ। পরে উপদেষ্টা ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনস্থ নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
বই পেল মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের শিক্ষার্থীরা
এদিকে নতুন বছরের বই পেয়েছে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী। ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৭৩ হাজার ৭৬৮টি কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৪টি বই বিতরণ করা হয়।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্পটি পাসের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এ প্রকল্পটিকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও মনির হায়দার এবং ধর্ম সচিব কামাল উদ্দিন।