সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে সরাসরি কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আখ্যায়িত করে তাতে স্বাক্ষর না করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, কোরআন বিরোধী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন যা সরাসরি কোরআন-হাদীস তথা ইসলামী বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি যাতে ওই কালো আইনের স্বাক্ষর না করেন সেজন্য তার ত্রুটি সমূহ চিহ্নিত করে বলেন, হেবা তথা দানের ক্ষেত্রে দানকারী দানীয় সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার- এটা দ্বারা মূলত মরনের পরে যেহেতু দেওয়া হচ্ছে সেহেতু এটা ‘‘মিরাসী সম্পত্তি বোঝায়’’। অপরদিকে মিরাসী সম্পত্তি আল্লাহতালা কর্তৃক নির্ধারিত ওয়ারিশগণ নির্ধারিত অংশ পাবেন এখানে ইন্টারফেয়ার করার কোনো সুযোগ নেই।
দ্বিতীয়ত, হেবা করার পর ওই দানীয় সম্পদ দাতা কর্তৃক ভোগ করার ক্ষেত্রে শরিয়তের কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বরং বোখারী মুসলিম শরীফসহ সহি হাদিসের কিতাবে বলা হয়েছে:"দান করে ওই সম্পদ যদি কেউ ফেরত নেয় তাহলে সে ওই কুকুর যে কুকুর নিজের বমি নিজে খায়"।
ওয়াসিয়াতের ক্ষেত্রে একটি সীমা ঠিক করে দেওয়া আছে যে, ক. সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশ ওসিহত করতে পারবেন। খ. ওয়ারিসদের ওসিহত করা যাবে না। সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে: "মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতএব কোনো ওয়ারিসের জন্য ওসিয়াত করা যাবে না।" বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলিম এবং মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তির হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হেবা, মিরাস ও ওসিয়াতের বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সম্পত্তি দানসংক্রান্ত নতুন কোনো আইন বা বিধান প্রণয়নের সময় ইসলামী শরিয়াহর প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এই ব্যবস্থা ইসলামী আইনের হেবা (দান), মিরাস (উত্তরাধিকার) এবং ওসিয়াত —এই তিনটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থার মধ্যকার সীমারেখা ও শর্তাবলির আলোকে গুরুত্বপূর্ণ শরিয়াহগত প্রশ্নের উদ্রেক করে।
উলামায়ে কেরাম আরো উল্লেখ করেন, ধর্মমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি এ ব্যাপারে ফতোয়া চাওয়ার প্রেক্ষিতে বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক ৪ ফেব্রুয়ারি একটি ফতোয়া প্রদান করেন। তাতে বলা হয়েছে- এ ধরনের হেবার হুকুম যা-ই হোক না কেন, যেহেতু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত মিরাস বণ্টননীতিকে এড়িয়ে যাওয়া, তাই এ ধরনের হেবা স্পষ্ট হারাম।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন-আল্লামা সাইয়েদ কামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী, মুফতি মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মুফতি আবু জাফর কাসেমী, ড. মুফতি মাওলানা আব্দুস সামাদ, অধ্যক্ষ ড. সামিউল হক ফারুকী, মুফতি আলী হাসান ওসামা, মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী, শায়খ সাইফুল্লাহ নোমানি, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান প্রমুখ।