হোম > জাতীয়

‘আওয়ামী পুনর্বাসন কেন্দ্র’ বিটিআরসিতে এখনো বহাল অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত ১৫৩ জন

আল-আমিন

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গত ১৫ বছরে দলটির পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা, বয়স জালিয়াতি, দলীয় কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও গত দেড় দশকে ১৫৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তারা বহাল রয়েছেন। এসব কর্মকর্তা অধিকাংশই আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও এমপিদের সুপারিশে বিটিআরসিতে চাকরি পেয়েছিলেন। অসৎ উপায় অবলম্বন করে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ নিয়ে ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

বিটিআরসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সেক্টরে বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি হলেও একমাত্র ব্যতিক্রম বিটিআরসি। এখানে কোনো পদোন্নতি হয়নি। বরং এখানকার জনবলের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ নিয়োগধারী। বিটিআরসিতে বর্তমানে শূন্য পদের সংখ্যা ৫০-এর অধিক। ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর ভিন্ন দলমতের কারণে এখানকার দীর্ঘ পদোন্নতিবঞ্চিতরা সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু অবৈধদের কারণে তা হয়নি। বর্তমানে বিটিআরসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৩৫৫ জন স্থায়ী জনবল আছে। অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং অডিট অধিদপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করছেন এবং তাদের একটি অংশকে উপপরিচালক থেকে পরিচালক পর্যায়ে পদোন্নতির জন্য।

সূত্র জানায়, টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর ক্ষমতাবলে যে কমিশনের জন্ম হয়েছে এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত টেলিযোগাযোগ নীতিমালা প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করা। কালের বিবর্তনে বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও আওয়ামী সরকারের আমলে সংস্থাটিতে এতটাই রাজনীতিকরণ করা হয়েছে, যার কারণে দাপ্তরিক জটিলতা বেড়েছে।

সূত্র জানায়, বিটিআরসি ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত নিয়োগ সার্কুলার অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করেন। কিন্তু সব আবেদনকারীর আবেদন আমলে না নিয়ে শুধু প্রকল্পে কর্মরত ও জুনিয়র কনসালটেন্টদের কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি নিয়োগ করা হয়। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি প্রবিধান অনুসরণ না করে সিনিয়র সহকারী পরিচালক পদে সার্কুলার দেওয়া হয়। কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে ২৯ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট ও ২১ জন প্রকল্প কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। বিটিআরসি থেকে প্রকল্প আত্তীকরণের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হলে মন্ত্রণালয় হতে সুস্পষ্টভাবে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়, ১৯৯৭ সালের পরবর্তী প্রকল্প বিধায় এর জনবল সরাসরি আত্তীকরণের কোনো সুযোগ নেই।

বিটিআরসি সরকারি নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ না করা এমনকি সংস্থাটির প্রবিধানে উল্লেখ্য পদ সংখ্যা, পদের আলোকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সের বাধ্যবাধকতা, সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদসহ বিভিন্ন বিষয় অনুসরণ না করে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তৎকালীন আওয়ামী প্রভাবশালী মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতা এইচটি ইমাম, বাহাউদ্দিন নাসিম, মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিকী, সাধন চন্দ্র, মোদাচ্ছের আলী, আলাউদ্দীন নাসীম এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এসব পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন।

আর তা বাস্তবায়নের নীলনকশার অংশ হিসেবে ওই সময়ে কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ (ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা), তৎকালীন ডিজি কর্নেল আহসান হাবীব খান (পরবর্তী সময়ে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান এবং নির্বাচন কমিশনের কমিশনার), প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহিদুল আলম (পরবর্তী সময়ে বিটিআরসির ডিজি এবং স্যাটেলাইট কোম্পানির কনসালটেন্ট), তৎকালীন প্রশাসনের উপপরিচালক তালেব হোসেন (এইচটি ইমামের আপন ভাতিজা) এবং তৎকালীন সহকারী পরিচালক খালেদ ফয়সল রহমান (কুমিল্লার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতার ছেলে) সম্পূর্ণ অনিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

পরবর্তী সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত জুনিয়র কনসালটেন্ট ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী সময়ে সব চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। ২০২৩ সালে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে একটি কমপ্লায়েন্স অডিট পরিচালনা করা হয় এবং একই বছরের ২১ জানুয়ারি অডিট আপত্তি [নং-৮২.১৫.০০০০.০০৩.১১.০০২.২৩-৬৩৫ (ক)] জারি করা হয়।

ওই পত্রে নিয়োগ বিধি উপেক্ষা করে ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে রাজস্ব খাতে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বয়স পরিমার্জনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি লঙ্ঘন, স্ট্রেনদেনিং দ্য রেগুলেটরি ক্যাপাসিটি অব বিটিআরসি প্রকল্পের ২১ কর্মচারীকে রাজস্ব খাতে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এছাড়া চাকরি বিধিমালা ২০০৯ উপেক্ষা করে সিনিয়র সহকারী পরিচালক পদে মো. নূরুন্নবী ও বেগম সাবিনা ইসলামকে নিয়োগ দেওয়াসহ আরো অন্যান্য বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করা হয়। কিন্তু বিটিআরসি এ বিষয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু তৎকালীন চেয়ারম্যান জহুরুল হক (পরবর্তী সময়ে দুদক কমিশনার) এবং শ্যাম সুন্দর সিকদার (নির্বাচন সম্পন্নের সাতদিনের মধ্যে সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে পরবর্তী সময়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান) ওই কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ উক্ত সিন্ডিকেটকে শক্তিশালী করে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে অতিরিক্ত সচিব জানে আলমের সভাপতিত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। কিন্তু কমিটি কোনো ধরনের প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

সূত্র জানায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিটিআরসি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫৭ কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়। নিয়োগ কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় ২০১০ সালে, যখন ৭৬ জন নিয়োগ পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম নিয়োগ পায় ২০২২ সালে, যেখানে ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক বছরগুলোতে নিয়মিত ও তুলনামূলকভাবে বড় আকারের নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যেখানে গড়ে প্রতি বছর ৫০ জনেরও বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে ২০১৫ থেকে ২০২২ সময়কালে নিয়োগ কার্যক্রমে স্পষ্টভাবে মন্দা লক্ষ করা যায়। এ সময় অনিয়মিত ও তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক নিয়োগ হয়েছে, যা ২২ থেকে ৪৬ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৩ সালের পর নিয়োগ কার্যক্রমে একটি সুস্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়।

২০০৯ থেকে ২০২২ এর মধ্যে বিটিআরসির নিয়োগে কারিগরি ক্যাডারদের আধিপত্য ছিল। এর মধ্যে উপসহকারী পরিচালক (কারিগরি) এবং সহকারী পরিচালক (কারিগরি) পদে মোট ১৫৩ জন নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এর পাশাপাশি কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহায়ক জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়। যার মধ্যে ৫৪ জন ড্রাইভার, ৪০ জন এমএলএসএস এবং ২৪ জন ব্যক্তিগত সহকারী রয়েছে। এছাড়া সহকারী পরিচালকসহ সাধারণ ও প্রশাসনিক ক্যাডারের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

যাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তারা হলেন—এম গোলাম রাজ্জাককে সরকারি চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার এক বছর ৯ মাস পর উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দেলোয়ার হোসেনকে বয়সসীমা অতিক্রম করার দুই বছর ১১ মাস পর সহকারী পরিচালক এবং উপসহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ইসরাফিল হককে বয়সসীমা অতিক্রম করার এক বছর ছয় মাস পর নিয়োগ দেওয়া হয়। দেওয়ান এম ফারুক আহমেদকে ছয় বছর বয়সসীমা অতিক্রম করার পর প্রটোকল সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। শেখ মোয়াজ্জেম হোসেনকে ১৬ বছর বয়সসীমা অতিক্রম করার পর অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রেজাউল করিমকে পাঁচ বছর ছয় মাস বয়সসীমা অতিক্রম করার পর অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একজন এমএলএসএস এবং একজন ড্রাইভারকেও বয়সসীমা অতিক্রম করার পর নিয়োগ দেওয়া হয়।

এছাড়া ২০০৯ সালের বিটিআরসি কোনো লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই এম নুরুননবী এবং বেগম সাবিনা ইসলামকে সিনিয়র সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়, যা প্রচলিত নিয়োগ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। শারমিন সুলতানাকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা লঙ্ঘন করে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের সময় তিনি প্রায় এক বছর বয়সসীমা অতিক্রম করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং/কম্পিউটার সায়েন্সে দ্বিতীয় শ্রেণির অনার্স ডিগ্রি ও মাস্টার্স ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছিলেন না। এমনকি তিনি উক্ত পদের জন্য আবেদনও করেননি। তা সত্ত্বেও ২০১২ সালে বিটিআরসির প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথাকথিত ‘রহস্যজনক ভূমিকা’র মাধ্যমে তিনি পদটি অর্জন করেন।

এছাড়া সঞ্জিব কুমার সিংহ, নাফিসা মাল্লিক ও আসাদুজ্জামানকে কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা ছাড়াই প্রযুক্তিগত শাখার সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এম নুরুননবী, অনামিকা ভক্ত ও বেগম সাবিনা ইসলামকে সরাসরি সিনিয়র সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা বিটিআরসি আইন, ২০০১-এর ২৯ অনুচ্ছেদ এবং বিধি ১৮(৪)-এর লঙ্ঘন। এছাড়া এমএ তালেব হোসেন, আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদ ও মো. ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া যথাক্রমে তিন বছর ২৬ দিন, ১১ মাস ২৪ দিন এবং ছয় মাস ৯ দিন ধরে পদোন্নতি ছাড়াই উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যা গুরুতর প্রশাসনিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

এম তৌফিকুল আলম ২০১৫ সালে সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়ে লিগ্যাল ও লাইসেন্সিং বিভাগে পদায়িত হন, যদিও তিনি এলএলবি (অনার্স)-এ তৃতীয় শ্রেণি অর্জন করেছিলেন, যা নির্ধারিত শিক্ষাগত মানদণ্ড পূরণ করে না।

বয়সসীমা অতিক্রম করা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্তরা অন্যরা হলেন—উপপরিচালক রেজাউল করীম, গোলাম রাজ্জাক, দেলোয়ার হোসন, ইসরাফিল হক, মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবিনা ইসলাম, শারমিন সুলতানা, দেওয়ান ফারুক আহমেদ ও ২১ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে একজন ডিডি, তিনজন এসএডি, পাঁচজন এডি, একজন এবং ১১ জন ডিএডি)।

একই অভিযোগে অভিযুক্ত আরো যারা নিয়োগ পেয়েছিলেন তারা হলেন—উপপরিচালক সামিরা তাবাসসুম, তৌহিদুর নাহার, মিরাজুল ইসলাম, মাহরীন আহসান, নাফিসা মল্লিক, এসএম গোলাম সারোয়ার, সঞ্জীব কুমার সিংহ ও আমজাদ হোসেন, মাহমুদুর রহমান, তাসমিয়া তাহমিদ, এসএম তাইফুর রহমান, রোকসানা মেহেজাবিন, রাইসুল ইসলাম, কাজী আফরোজ সুলতানা, গোলাম রাজ্জাক, কাজী মাইনুল হাসান, জাহিদুল ইসলাম, শহিদুর রহমান, কাজী শেলি রহমান, তানজারা বিনতে আনসার, নওয়াজ মোহাম্মদ, আশরাফুল আযম, শফিউল আজম সুমনসহ ১৫২ জন। যারা এখনো বহাল তবিয়তে আছেন।

জানা গেছে, কমিশনের সহকারী পরিচালক এমএ তালেব হোসেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমমের আপন ভাতিজা। তিনি এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা।

খালেদ ফয়সলের বাবা কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি। ২০১০ সালে আওয়ামী আমলের শুরুতে বয়স পরিমার্জন করে (প্রায় ৩৪ বছর বয়সে) বিটিআরসিতে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সরকারি চাকরিতে নজিরবিহীন। লিখিত পরীক্ষাসহ কোনো ধরনের মেধা যাচাই না করেই সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয় এই ফয়সলকে। বিষয়টি নিয়ে অডিট আপত্তি রয়েছে। গত ১৫ বছর তিনি বিটিআরসির চেয়ারম্যানদের সঙ্গে থেকে সব অনিয়মের সহযোগী ছিলেন।

উপপরিচালক শারমিন সুলতানার (স্পেকট্রাম বিভাগ) দুলাভাই ফেনীর আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি আলাউদ্দিন নাসিম। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হলে আলাউদ্দিন নাসিম তখন তার প্রটোকল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে গেলে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আলাউদ্দিন নাসিমকে তার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন।

আশীষ কুমার কুন্ডু, মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ)। তার চাকরি জীবন শুরু খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সুপারিশে। বিভিন্ন ব্যাংকে কমিশনের এফডিআর রেখে কমিশন নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংকে স্বজনদের চাকরি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কমিশনের চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার এবং ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্রের ছত্রছায়ায় তিনি সিন্ডিকেট গড়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসায় তৎকালীন চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাকে কারিগরি ও আইনগত কোনো জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও তাকে লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগে পদায়ন করেন।

এ বিষয়ে জানতে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবকে মোবাইলে ম্যাসেজ ও কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারীকে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, চলতি জানুয়ারিতে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল একসঙ্গে প্রকাশ

নীলফামারীর চীন মৈত্রী হাসপাতাল হবে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র: প্রধান উপদেষ্টা

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

দেশজুড়ে বাড়ছে নারী নির্যাতনের ঘটনা, ১০ মাসে ১৯ হাজার মামলা

সচিবালয়ে ভোটের রেশ

ঢাকা-১২ আসনে ভোটযুদ্ধে তিন সাইফুল

বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটে জড়িত হাসিনা-নসরুল

আজ যেসব এলাকায় ৭ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অন্ধকার: ওবায়দুল কাদের

সাদ্দামের প্যারোলে বাধা হয় হাসিনার আইন