ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ-জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বের শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত দেশের প্রধান ঈদ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি মো. আবদুল মালেক।
এদিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় জাতীয় ঈদগাহ-এ ঈদের প্রধান জামাত শুরু হয়। এর আগে সকালে সেখানে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
জামাত শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও ইরানের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়।
পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্ব ও বাংলাদেশজুড়ে হামের ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া মোনাজাতে সবার গুনাহ মাফ ও মৃতদের কবরের আজাব মাফ চাওয়া হয়। বিশ্বশান্তির জন্যও দোয়া করা হয়।
এর আগে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের খুতবায় ‘মনের পশুকে জবাই’ করার আহ্বান জানিয়ে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করেন মাওলানা আবদুল মালেক।
ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নামাজ আদায় করেন।
এবার জাতীয় ঈদগাহের ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। নারীদের জন্য রাখা হয় আলাদা প্রবেশপথ, ওযুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কাতারে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।
সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য জায়গা রাখা হয়। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের স্থান নির্ধারণ করা হয়।
জাতীয় ঈদগাহে প্যান্ডেলের কাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা হয় ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ। কাঠামো মজবুত রাখতে ব্যবহৃত হয় ১৫ টনের বেশি রশি। বৃষ্টি থেকে সুরক্ষায় টাঙানো হয় ১ হাজার ৯০০টি ত্রিপল। মাঠ আলোকিত রাখতে রাখা হয় ৯০০টি টিউবলাইট।
গরমের বিষয়টি বিবেচনায় প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশে রাখা হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। পুরো মাঠে কার্পেট বিছানো হয়।
ঈদগাহে প্রবেশের জন্য রাখা হয় মোট চারটি গেট। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি এবং সাধারণ মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ নির্ধারণ করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে বের হওয়ার জন্য রাখা হয় সাতটি বহির্গমন পথ। এর মধ্যে সাধারণ পুরুষদের জন্য পাঁচটি, নারীদের জন্য একটি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি পথ নির্ধারণ করা হয়।