সম্প্রতি নিজের একটি বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেও আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরছেন না প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে যখন সারা দেশ উৎসবের আমেজে মগ্ন, ঠিক তখনই ফেসবুক, এক্স ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তাকে ঘিরে চলছে বিতর্ক। বক্তব্য প্রত্যাহারের পরেও নেটিজেনদের ক্ষোভ ও ট্রলের জোয়ার যেন থামছেই না।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দেওয়া বক্তব্য ঘিরে এ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ বক্তব্যের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণাও করেছে একদল শিক্ষার্থী।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রসংলগ্ন (টিএসসি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন।
বক্তারা দাবি করেন, নিজের নির্বাচনি এলাকা মোহাম্মদপুরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্তব্য করেন। এ কারণেই তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, তিনি জনস্বার্থে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন। এ সময় তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন এবং প্রতীকীভাবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান জানান।
শেষে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার কোনো ধরনের উপস্থিতি তারা মেনে নেবেন না। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
গত শুক্রবার সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আবদুস সালাম এবং ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিবৃতিতে সাদা দলের নেতারা বলেন, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ‘চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা বলেন, গবেষণা ও প্রকাশনায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র্যঙ্কিংয়েও এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি বিশেষায়িত গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (সিএআরএস) এবং সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (সিএসএসআর) উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড আন্তর্জাতিক জার্নালে অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
সাদা দলের নেতারা দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তুলনা করেছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক আন্দোলনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।
এ ছাড়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১/১১-পরবর্তী অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাঙালির সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম ধারক হিসেবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ঐতিহ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সীমিত বাজেট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
সাদা দলের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ মানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’ এমন একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর মুখে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো কোচিং সেন্টার’ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
নেতারা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ‘অজ্ঞতাপ্রসূত’ এবং তা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত: গত সপ্তাহে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও তরুণদের কর্মসংস্থান সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেখানে তিনি দেশের শিক্ষিত বেকারদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন যা সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ তার এই বক্তব্যকে ‘উদ্ধত’বলে আখ্যায়িত করেন।
তীব্র সমালোচনার মুখে দুই দিন পর প্রতিমন্ত্রী তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে নেন। তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যটিকে ‘কনটেক্সট বা প্রসঙ্গ ছাড়া’ কেটে প্রচার করা হয়েছে, যার ফলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে বিতর্কের নতুন মোড়: বক্তব্য প্রত্যাহারের মাধ্যমে বিষয়টি থিতিয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হলেও, ঈদের ছুটিতে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। ছুটির অবসরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ এই বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসেন।
ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত আইডিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ব্যঙ্গ করে অসংখ্য শেয়ার হতে দেখা গেছে। ট্রল পেজগুলো তার দুঃখ প্রকাশের বিবৃতিটিকেও রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করছেন। মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন কেউ কেউ। তরুণদের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম টিকটকে তার মূল বক্তব্যের অডিওর সাথে বিভিন্ন প্রতীকী ভিডিও জুড়ে দিয়ে শত শত রিলস তৈরি করা হয়েছে, যা লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমের এই উত্তাল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুকে এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মন্তব্য ‘একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর মুখ থেকে এমন মন্তব্য আশা করা যায় না। বক্তব্য প্রত্যাহার করলেই ক্ষোভ মুছে যায় না, বিশেষ করে যখন দেশের তরুণরা চাকরি নিয়ে স্ট্রাগল করছে।’
তবে প্রতিমন্ত্রীর সমর্থনেও অনেককে পোস্ট করতে দেখা গেছে। ববি হাজ্জাজের রাজনৈতিক অনুসারী ও সমর্থকদের দাবি, এটি একটি সুসংগঠিত অনলাইন প্রোপাগান্ডা। এক্সে এক সমর্থকের পোস্টে দাবি করা হয়, ‘তিনি তো নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ঈদের ছুটির মধ্যে একটি ক্লোজড চ্যাপ্টারকে টেনে এনে জলঘোলা করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।’
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এর মাধ্যমে এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল-বোঝাবুঝি থাকবে না বলে মনে করছেন তিনি। গত শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করার কথা জানান।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ‘SameerScane’ নামের একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার কিছু মন্তব্য নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, আমার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করছি।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রথমত এগুলো সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত; এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি মূলত বলতে চেয়েছেন যে সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার। তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা ছিল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজমের (চৌর্যবৃত্তি) মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। আমি এসব প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করি এবং বিশ্বাস করি যে এগুলোর কোনো স্থান একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা উচিত নয়।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, পডকাস্টের আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। যদি এটি একটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা নীতিগত আলোচনার পরিসর হতো, তাহলে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনাও অবশ্যই আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট হতো।
একটি বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতি গঠনে তার অবদানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি চান, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার একটি স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরাও এই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও সমৃদ্ধ, আরও গবেষণানির্ভর এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা এমন একটি একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সততা, মেধা, গবেষণার মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে; যেখানে প্লেজারিজম বা অন্য কোনো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার কোনো স্থান থাকবে না। সেটিই হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রতি প্রকৃত সম্মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব। তারপরও আমার আংশিক বক্তব্যটি যেহেতু কিছুটা ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আমার অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন, সে জন্য আমার এই বক্তব্য আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং আশা করি এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল-বোঝাবুঝি থাকবে না।’
রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে রাজনীতিবিদদের যেকোনো বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাই বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একবার কোনো মন্তব্য জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেললে, পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ বা বক্তব্য প্রত্যাহার করেও সেই ক্ষোভ সহজে প্রশমিত করা যায় না— ঈদের ছুটিতে ববি হাজ্জাজকে নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক তারই আরও একটি বড় প্রমাণ।
এমবি