একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি, গবেষক, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সবশেষ জানাজা শেষে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
দাফনের আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এসময় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় আরো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কবির মরদেহ জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং দ্বিতীয় জানাযার নামাজ পড়া হয়। এর আগে গত শুক্রবার এশার নামাজের পর উত্তরার বাসভবন সংলগ্ন মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং সবশেষ কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
কবি আল মুজাহিদী ১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি টানা তিন দশকেরও বেশি সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রচিত অর্ধশতাধিক গ্রন্থের মধ্যে ২০টিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। কবিতা ছাড়াও উপন্যাস, ছোটগল্প এবং শিশুসাহিত্যে তার অনবদ্য অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন । তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। কবির মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।