ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
আসন্ন সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে দেশের ২৯৮টি আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭২ জনে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য একীভূত করে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষদিন পুন:তফসিল হওয়া পাবনা-১ ও ২ আসনে।
ইসির দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা-১২ আসনে এবং সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে। রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ‘তিন সাইফুল’। তারা হলেন— বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, পিরোজপুর-১ আসনে প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে কম। এখানে মাত্র দুজন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে টিকে আছেন। তারা হলেন— জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ সাঈদী এবং বিএনপির আলমগীর হোসেন। প্রার্থী সংখ্যা কম হলেও হেভিওয়েট এই দুই নেতার মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।
ইসির তথ্যমতে, দেশের ৩১টি আসনে ১০ জন করে প্রার্থী লড়ছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। এছাড়া অন্যান্য আসনের চিত্র নিম্নরূপ: ১২ জন প্রার্থী: খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪ ও গাজীপুর-২। ১১ জন প্রার্থী: ঢাকা-৫, ৭, ১১, ১৬, ১৭ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫ ও খাগড়াছড়ি। ১০ জন প্রার্থী: ঠাকুরগাঁও-৩, রংপুর-৫, গাইবান্ধা-৩, খুলনা-৩, টাঙ্গাইল-৪, ঢাকা-১৮, নরসিংদী-৫, নারায়ণগঞ্জ-৫, মাদারীপুর-১ ও ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-৫, নোয়াখালী-৬ এবং চট্টগ্রাম-৯ ও ১১। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে ১০ জন এবং বগুড়া-৬ আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হচ্ছেন। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াত আমির) ঢাকা-১৫ আসনে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী। মির্জা আব্বাস (বিএনপি), ঢাকা-৮ আসনে ১০ জন প্রার্থী (সঙ্গে আছেন এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী)। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (বিএনপি):, চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী। মাওলানা মামুনুল হক (খেলাফত মজলিস), ঢাকা-১৩ আসন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (বিএনপি) ঢাকা-১ আসন। মুফতি ফয়জুল করীম (ইসলামী আন্দোলন) বরিশাল-৫ আসন।
কিছু আসনে আইনি জটিলতা ও ঋণখেলাপির কারণে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সমীকরণ বদলে গেছে। কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহর পথ সহজ হয়েছে বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায়। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ এবং কুমিল্লা-১০ আসনেও বিএনপির প্রার্থীদের আবেদন টেকেনি, যার ফলে এসব আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, প্রার্থী যত বেশি হবে, ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তত জোরালো হবে। এখন সারাদেশে প্রতীক বরাদ্দ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রস্তুতি চলছে।