বিরোধীদলের তীব্র প্রতিবাদ, বিরোধিতা ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আইন মানবাধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত এবং অপরটি পিতা-মাতাকে আজীবন ভোগস্বত্ব বজায় রেখে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রদান-সংক্রান্ত।
মানবাধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধে আনীত বিল দুটিকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে আজ রোববার রাতে ওয়াকআউট করে বিরোধীদল। পরে তৃতীয় বিল পাসের সময়ও তারা আপত্তির কথা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংসদ অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে। বিরোধীদলের এসব আপত্তি তোয়াক্কা না করেই বিলগুলো পাস করা হয়।
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) বিল ২০২৬’ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা ও উদ্বেগ জানিয়েছিল।
এছাড়া পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬, ১৮৮২ সালের ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্টে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে আইনটি করা হয়েছে।
৩ আইনে যা আছে
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন: নতুন এই আইনে গুমের ঘটনার তদন্তের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। এ আইনে করা মামলা একজন নির্দিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা (সাধারণত উপপরিদর্শক পদমর্যাদার) তদন্ত করবেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের ঘটনা সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন: এ আইনে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্ত করার ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন: এ আইন অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি যদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (কিংবা বিপরীতভাবে) এবং স্বামী বা স্ত্রী যদি পরস্পরকে কোনো সম্পত্তি দান করেন, তবে দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখলের অধিকার পাবেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব আনেন। অন্যদিকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে কণ্ঠভোটে তিনটি বিলই পাস হয়।
রাত ৮টা ১০ মিনিটে মানবাধিকার কমিশন বিল ও গুম-সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের আগে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেন। বিলটি উপস্থাপনের আগে ফ্লোর নিয়ে ওয়াকআউটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ আগস্ট সংসদে এই দুটি বিল উত্থাপনের সময়ও বিরোধীদল একইভাবে ওয়াকআউট করেছিল এবং পরে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনাও বয়কট করেছিল।