হোম > জাতীয়

প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের ২০ বছর, বৈপ্লবিক পরিবর্তনে ভূমিকা খালেদা জিয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি

ছবি: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজারে অবস্থিত দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই ৪’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করছেন।

দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট বিপ্লব ও ডিজিটাল রূপান্তরের দুই দশক পূর্ণ হবে কাল (২১ মে)। ২০০৬ সালের ২১ মে কক্সবাজারে দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই ৪’ -এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি মহাসড়কে যুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে শুরু হওয়া এই একটি মাত্র সাবমেরিন ক্যাবল গত ২০ বছরে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের ধীরগতির যুগ পেরিয়ে দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, ফ্রিল্যান্সিং ও সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ঐতিহাসিক এই মাইলফলক উপলক্ষে দেশের তথ্য পরিকাঠামোর নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)।

২০০৫ সালের পূর্বে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটনির্ভর। সেই সময়ে ইন্টারনেটের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর—মাত্র কয়েক কিলোবিট থেকে সর্বোচ্চ কয়েক মেগাবিট । ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের কোনো সুনির্দিষ্ট পথ ছিল না। আন্তর্জাতিক কলের মান ছিল নিম্ন এবং খরচ ছিল আকাশচুম্বী। ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং বা ডিজিটাল অর্থনীতির কোনো পরিকাঠামোই তখন দেশে ছিল না।

২০০৬ সালের ২১ মে সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত প্রায় ২০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সি-মি-উই ৪’ কনসোর্টিয়ামের সাথে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। শুরুতে বাংলাদেশের লিট-আপ ক্যাপাসিটি ছিল মাত্র ২২ জিবিপিএস এবং ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রকৃত ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার ছিল মাত্র ৫.৮৯ জিবিপিএস। তবে ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিএসসিপিএলসি পর্যায়ক্রমে এর সক্ষমতা বাড়াতে থাকে। ২০১১-১২ সালে প্রথম আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে সক্ষমতা ৮৫০ জিবিপিএস-এ উন্নীত করা হয় এবং সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ষষ্ঠ আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩,৮০০ জিবিপিএস ক্যাপাসিটি যুক্ত করা হয়। ফলে বর্তমানে শুধু ‘সি-মি-উই ৪’ ক্যাবলেই বাংলাদেশের মোট ডিজাইন ক্যাপাসিটি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৬aso০ জিবিপিএস।

প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের কল্যাণে গত দুই দশকে বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটেছে। কিলোবিট -এর যুগ পেরিয়ে দেশ এখন গিগাবিট গতির ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ করেছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং আজ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, যার মাধ্যমে লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং ফিনটেক সেবার পাশাপাশি পাসপোর্ট আবেদন, ভ্যাট রিটার্ন ও জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো সরকারি সেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। অনলাইন ক্লাস এবং টেলিমেডিসিন সেবা প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা করোনা মহামারিকালীন সময়ে জাতীয় জীবনে অমূল্য ভূমিকা পালন করেছিল।

বিএসসিপিএলসি শুরু থেকেই একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ৫১৫.৪৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। সরকারি লভ্যাংশ, কর ও শুল্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও এটি একটি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

‘সি-মি-উই ৪’ -এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই ৫’ চালু করা হয়। বর্তমানে এই দুটি ক্যাবলের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭,২২০ জিবিপিএস। বিএসসিপিএলসি এখন তাদের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই ৬’ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা চালু হলে দেশের মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮,০০০ জিবিপিএস (৩৮ টিবিপিএস)। এটি ২০২৭ সালের প্রাক্কলিত জাতীয় চাহিদার ৩ গুণেরও বেশি। ২০৩০ সাল পর্যন্ত ‘সি-মি-উই ৪’-এর মেয়াদ থাকলেও আয়ুষ্কাল আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত ১০২ টিবিপিএস সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের প্রাথমিক উদ্যোগও ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

বিএসসিপিএলসি-এর আওতাধীন ৩টি ক্যাবলই বিশ্বস্ত সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম -এর অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের তথ্য নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে। দুটি পৃথক ল্যান্ডিং স্টেশন থাকায় পর্যাপ্ত ব্যাকআপ বা রিডান্ডেন্সি নিশ্চিত রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের ৯৮.৬৬% সক্ষমতাই সিঙ্গাপুর ও চেন্নাই রুটের মাধ্যমে নিরাপদে পরিচালিত হচ্ছে, যা কোনো আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটে বিঘ্নিত হবে না।

২০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ক্ষণে বিএসসিপিএলসি দেশের সকল অপারেটর ও সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে রাষ্ট্রীয় এই ‘নিরাপদ ও বিশ্বস্ত’ অবকাঠামো থেকে ব্যান্ডউইডথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক ডিজিটাল হাবে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

এএস

ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ সংসদের

‘প্রবাসী কার্ড’ উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ, রোহিঙ্গা ও অভিবাসন সহযোগিতা নিয়ে খলিলুর-কুক বৈঠক

অসম চুক্তি বাতিল ও নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারের তাগিদ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন

দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

ঈদে মিলাদুন্নবীতে ছুটি পাবেন না যারা

নৌপথের নাব্যতা ফেরাতে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার