কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে জাতীয় সংসদে জরুরি বিল উত্থাপনের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ।
একই দাবিতে আগামী ২ অক্টোবর শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক চকবাজার শাহী মসজিদে ‘খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার সকাল ৮টায় রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম, দিলু রোড মাদরাসা মিলনায়তনে সংগঠনের সাব-কমিটির এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি ও সাব-কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।
বৈঠকে আগামী ২ অক্টোবরের মহাসম্মেলন সফল করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। খতমে নবুওয়তের আকিদাগত গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ পুস্তিকা, পোস্টার ও লিফলেট ছাপিয়ে সারা দেশে বিতরণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর তেজগাঁও ইমাম খতীব উলামা পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় ইসলামী মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ‘আকিদায়ে খতমে নবুওয়ত’ শীর্ষক আলোচনা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর জোন কমিটিগুলো দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও সক্রিয় করতে পাঁচ সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী সালাহউদ্দিন, কেন্দ্রীয় সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মুফতী গাজী ইয়াকুব উসমানী, কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ এবং ঢাকা মহানগর দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা এহতেশামুল হক সাখীকে রাখা হয়েছে।
বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘খতমে নবুওয়ত ঈমানের মূল ভিত্তি। দেশব্যাপী কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে আলেম-উলামা ও আমজনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে।’
তিনি বলেন, শুধু সভা-সমাবেশের মধ্যে কর্মসূচি সীমাবদ্ধ না রেখে প্রান্তিক ও তৃণমূল এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ‘অপতৎপরতা ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত’ বেশি, সেসব স্থানে মহাসম্মেলনের পাশাপাশি ঘরে ঘরে দাওয়াতি কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনের মহাসচিব ও সাব-কমিটির সমন্বয়ক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৯২ ভাগ মুসলমানের এই দেশে তারা নিজেদের মুসলিম পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, যা আকিদা ও ঈমানের ওপর বড় আঘাত।’
সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসন্ন সংসদ অধিবেশনে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার লক্ষ্যে কার্যকর বিল উত্থাপন করুন। এটি কোটি মুসলিমের গণদাবি।’
আইনগতভাবে তাদের অমুসলিম ঘোষণা করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বৈঠকে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আজহারী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী সালাহউদ্দিন, কেন্দ্রীয় সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মুফতী গাজী ইয়াকুব উসমানী, কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, ঢাকা মহানগর দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা এহতেশামুল হক সাখী, ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা আল আমীন সরাইলী এবং নোয়াখালী জেলা দায়িত্বশীল মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম নাদিমসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।