সংবাদ সম্মেলনে এইচআরএসএস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্বের যেকোনো সময়ের নির্বাচনের থেকে নিরপেক্ষ, শান্তি পূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
সংগঠনটি জানায়, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তফশিল ঘোষণার পর দেশজুড়ে অন্তত ২৫৪টি সহিংসতার ঘটনা এবং নির্বাচনের দিন নির্বাচন ঘিরে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট, পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া, বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাসহ অন্তত ৩৯৩টি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এইচআরএসএস আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য তুলে ধরেন।
সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৫৪ টি নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনায় কমপক্ষে ১ হাজার ৬৫০ জন আহত হয়েছেন এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় ২৪ জনের অধিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দুইশ এর বেশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
এইচআরএসএস জানায়, নির্বাচনের দিন অন্তত ৩৯৩টি অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট প্রদান, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভোট গণনা কক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ ও প্রতিহিংসামূলক হামলার ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া নারীদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও নির্যাতনের একাধিক অভিযোগের কথাও তুলে ধরা হয়।
ইজাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা ও অনিয়ম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংগঠনটি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।