হোম > জাতীয়

বাংলাদেশের পাটপণ্যে নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক ভারতের

আমার দেশ অনলাইন

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটপণ্যের ওপর প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। নতুন এই শুল্কের আওতায় রয়েছে পাটের সুতা ও টুইন, পাটের বস্তা এবং হেসিয়ান কাপড়। ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্যের চালান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমে আসার মধ্যেই নতুন করে এই শুল্ক আরোপ করা হলো। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর)-এর মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার পর পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে প্রকাশিত ওই পর্যালোচনা প্রতিবেদনে ডিজিটিআর সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা ভারতে পাটপণ্য ডাম্পিং অব্যাহত রেখেছেন এবং এর ফলে ভারতের স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটপণ্যের ওপর বিদ্যমান অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বাড়ানো প্রয়োজন কি না, তা নির্ধারণের জন্য ২০২৫ সালের জুনে ডিজিটিআর মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা শুরু করে। ভারতীয় জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পর্যালোচনা শুরু করা হয়েছিল।

পর্যালোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ৫৪টি এবং নেপালে ৩৬টি পাটকলের কাছ থেকে তথ্য ও জবাব চাওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩৮টি এবং নেপালের পাঁচটি পাটকল কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া তথ্য সরবরাহ করে।

ভারত এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা ও টুইন, হেসিয়ান কাপড় এবং পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পাটের বস্তার কাপড়ও এই শুল্কের আওতায় আনা হয়। এর ফলে বাংলাদেশের অন্যতম বড় পাটপণ্যের বাজার ভারতে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

সর্বশেষ পদক্ষেপটি ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের ৩৬টি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি করা পাটের সুতা ও টুইন, পাটের বস্তা এবং হেসিয়ান কাপড়ের ওপর বিভিন্ন হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। শুল্কের হার শুরু হয়েছে প্রতি টনে ৫৯ ডলার থেকে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পাটের সুতা ও টুইন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওপর প্রতি টনে ৫৯ ডলার শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক দিতে হবে। অন্যদিকে এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলি জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ—এই ছয়টি প্রতিষ্ঠান তারা যে পণ্যশ্রেণির পাটপণ্য রপ্তানি করে, সেসবের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। এ ছাড়া নাটোর জুট মিলস এবং জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কহার পেয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে বাংলাদেশের অন্য কোনো উৎপাদক বা রপ্তানিকারক ভারতে পাটের সুতা বা টুইন পাঠালে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক দিতে হবে। এটিই নতুন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ শুল্কহার।

ভারতের যুক্তি

ডিজিটিআরের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকালীন সময়ে ভারতে পাটপণ্যের সামগ্রিক চাহিদা ২০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে পাটপণ্যের আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশ।

ডিজিটিআরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেশটির সামগ্রিক বাজার সংকুচিত হওয়ার তুলনায় বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমার হার কম হওয়ায় বিদেশি উৎপাদকরা ভারতীয় পাটকলগুলোর তুলনায় বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়িয়েছে। ভারতীয় সংস্থাটি এটিকে স্থানীয় শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কারণ হিসেবে দেখেছে।

ডিজিটিআরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের রপ্তানি ইতোমধ্যেই নিম্নমুখী ছিল। এর মধ্যেই নতুন করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হলো।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আপত্তি

ভারতের এই পদক্ষেপকে একপাক্ষিক ও জবরদস্তিমূলক বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশি পাটপণ্য রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক নির্ধারণের সময় ভারত যে ভর্তুকির হার বিবেচনায় নিয়েছে, তা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তাপস প্রামাণিক বলেন, ‘তারা যে ভর্তুকির হার বিবেচনায় নিয়ে আমাদের রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে, তা বছরের পর বছর ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তারা মনে করে আমরা অনেক বেশি ভর্তুকি পাই, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়।’

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার পাটের সুতা ও টুইন এবং পাটের বস্তা রপ্তানিতে ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে থাকে। তাপস প্রামাণিক বলেন, ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি কমেছে ঠিকই, তবে প্রাকৃতিক তন্তুভিত্তিক পণ্যের সামগ্রিক রপ্তানি আর কমার সম্ভাবনা কম।

বাংলাদেশের পাট রপ্তানির সামগ্রিক চিত্র

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন বা ১১৬ কোটি ডলার আয় করেছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে রপ্তানি কমতে থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় নেমে আসে ৮২০ মিলিয়ন বা ৮২ কোটি ডলারে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানিতে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। ওই অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮৪ মিলিয়ন বা ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ফলে একদিকে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের রপ্তানি কমছে এবং নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ফলে সেখানে প্রতিযোগিতার চাপ আরও বাড়তে পারে; অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

২২ অক্টোবরও সরকারি ছুটি, দুর্গাপূজায় মোট ছুটি কত দিন

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘দূরদর্শী ও দিকনির্দেশনামূলক’ বললেন রাষ্ট্রপতি

কিশোর গ্যাংয়ের পেছনের প্রভাবশালীদের উদ্ঘাটন করার নির্দেশ

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৩৯

একযোগে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার

লিভার প্রতিস্থাপনে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব পাকিস্তানের

শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশা: ‘আমি আদালতকে অনেক সম্মান করি’

একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

দক্ষিণ এশিয়ায় ওষুধে বেশি ভ্যাট বাংলাদেশে

‘তোরা আমাকে ভালো হতে দিলি না’