ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলায় প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বইয়ের স্টল ঘুরে দেখা, প্রিয় লেখকের বই কেনা এবং শহীদ হাদির জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানার আগ্রহে সকাল থেকেই টিএসসি প্রাঙ্গণে জড়ো হন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিএসসির পায়রা চত্বরে স্থাপিত ২২টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল ঘিরে উৎসুক দর্শনার্থীদের ভিড়। কেউ কেউ বইয়ের পাতা উল্টে দেখছেন, আবার কেউ দামাদামি করে পছন্দের বই কিনছেন। অনেক শিক্ষার্থী দলবদ্ধভাবে স্টল ঘুরে ঘুরে বই দেখছেন এবং ছবি তুলছেন।
মেলার প্রবেশমুখে শহীদ ওসমান হাদির ছবি ও ব্যানার টানানো হয়েছে। ব্যানারে লেখা বিভিন্ন স্লোগানে ফুটে উঠছে তার সংগ্রামী জীবন ও আদর্শ। মেলার একপাশে সাংস্কৃতিক মঞ্চে চলছে আবৃত্তি, গান ও আলোচনা। এতে অংশ নিচ্ছেন শিক্ষার্থী ও তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ আমার দেশকে বলেন, শহীদ ওসমান হাদির আদর্শ সম্পর্কে জানার জন্যই মূলত মেলায় এসেছি। এখানে তার জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে বেশ কিছু ভালো বই পাওয়া যাচ্ছে। এমন উদ্যোগ আরো বেশি হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, শুধু বই কেনা নয়, এই মেলা আমাদের ইতিহাস ও আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে এসে নতুন করে অনুপ্রাণিত হচ্ছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ কলাম লেখক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এই পাঁচ দিনব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেডের সহযোগিতায় রোববার মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
মেলায় মোট ২২টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল অংশ নিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই মেলা। বই বিক্রির পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ ওসমান হাদি তার কাজের মাধ্যমে দেখিয়েছেন আমাদের লড়াইটা কাদের সঙ্গে। তারা ভেবেছিল হত্যা করে তার আদর্শ নিভিয়ে দিতে পারবে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। বরং তার আদর্শ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা জীবিত থাকতেই তার হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করবো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি আশিক খান বলেন, এই বইমেলার মূল উদ্দেশ্য হলো ওসমান হাদির জীবন, আদর্শ ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। চিন্তা ও পাঠের মাধ্যমে প্রতিবাদী চেতনাকে জাগ্রত করা এবং বইকে প্রতিরোধ ও মুক্তচিন্তার হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।