হোম > জাতীয়

তাপমাত্রার তুলনায় দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরম বেশি, কী বলছে আবহাওয়া দপ্তর

আমার দেশ অনলাইন

গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃষ্টির প্রবণতা কমে দেশজুড়ে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে তীব্র ভ্যাপসা গরম পড়েছে। মৌসুমের উষ্ণতম মাস হিসেবে তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

এর কারণ হিসেবে বঙ্গোপসাগর থেকে সরাসরি উঠে আসা দক্ষিণা বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে সারা দেশে এই অসহনীয় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে পাল্লা বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে; অসহনীয় গরমে ছটফট করছে সারাদেশে মানুষ। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

যদিও বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্নস্থানে বৃষ্টি হয়ে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কিছুটা উপশম হতে পারে। তবে রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর দেওয়া তথ্য মতে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটিতে ১১, বান্দরবনে ৬, কক্সবাজারে ৫, শ্রীমঙ্গলে ৩, পটুয়াখালী ও সীতাকুণ্ডে ২, নেত্রকোনায় ১ মিলিমিটার এবং বগুড়া ও খেপুপাড়ায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীসহ দেশের ৫১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আর কোথাও বৃষ্টি হয়নি। আগের দিনের তুলনায় বুধবার তাপমাত্রা বেড়েছে। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল লক্ষীপুরের রামগতিতে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস; যা আগের দিন যশোরে ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস । রাজধানীতে তাপমাত্রা বেড়ে হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি; যা আগেরদিন ছিল ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি। বুধবার সকাল ছয়টায় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ আর সন্ধ্যা ছয়টা ৬৩ শতাংশ

অন্যদিকে আগের দিন চার জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও বুধবার পরিধি বেড়ে রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও চাঁদপুরসহ মোট ১০ জেলার উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী কয়েকদিন একই অবস্থা থাকলেও তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সারাদেশে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও তীব্র ভ্যাপসা গরমে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। প্রাণীকুলেরও প্রাণ যেন ওষ্ঠাগত।

বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম এপ্রিল-মে মাসে যে ধরনের তাপমাত্রা থাকার কথা তাও নেই; কখনো কখনো তাপপ্রবাহ শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে তা আর বেশি সময় ধরে স্থায়ী হচ্ছে না। বেশি বৃষ্টির পরও দেশজুড়ে কেন তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ এ. কে. এম. নাজমুল হক বলেন, দেশজুড়ে বৃষ্টি কমে তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়তে না দিলেও দক্ষিণা বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের শরীর বেশি ঘামছে। আর সেই ঘাম সহজে শুকাতে দিচ্ছে না আর্দ্রতা। আর এতেই সারাদেশে তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।

নাজমুল হক আরো বলেন, ২০২৩ সালের এপ্রিল-মে মাসে টানা ৩৫ দিন আর ২০২৪ সালে টানা ২৬ দিন তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ওই দুই বছরে তাপমাত্রাও বেশি ছিল, কিন্তু এবার বৃষ্টি বেশি হওয়ায় সে ধরনের আবহাওয়া নেই।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২০২৩ ও ২০২৪ সালের এপ্রিল-মে মাসে যে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ (৪২-৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছিল, সেই তুলনায় ২০২৫ সালেও কম ছিল। গত বছর ১০ মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল চুয়াডাঙ্গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের বছর চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এবার গত ২২ এপ্রিল শুধু একদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে এবার এ পর্যন্ত তুলনামূলক তাপমাত্রা বিরাজ করছে।

অর্থাৎ বৃষ্টির প্রভাবে সারাদেশের তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও স্বস্তি মিলছে না কোথাও। সারাদিনে জ্যৈষ্ঠের খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে সহসা পরিত্রাণ পাওয়ারও কোনো লক্ষণ দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, মৌসুমের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হলেও চলতি মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া আগামী জুন-জুলাই মাসে বৃষ্টি কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ বর্ষাজুড়তেও থাকতে পারে ভ্যাপসা গরমের দাপট এমনটিই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম।

মিরপুরে বস্তি উচ্ছেদে গিয়ে তাড়া খেল পুলিশ

গণমাধ্যম কমিশন গঠন নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন তথ্যমন্ত্রী

ঈদযাত্রায় সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে ৪৯ ম্যাজিস্ট্রেট

জবাবদিহিতাবিহীন নিরাপত্তা কখনো স্থিতিশীলতা আনতে পারে না: স্পিকার

বাজেটে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

নিরাপত্তা শুধু অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর নির্ভর করে না: স্পিকার

প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের ২০ বছর, বৈপ্লবিক পরিবর্তনে ভূমিকা খালেদা জিয়ার

পদ্মার মতো তিস্তা ব্যারাজও নির্মাণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: শিক্ষা সচিব

তরুণদের নিরুৎসাহিত করতে ১০ শলাকার মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি