কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, আমসহ যেকোনো পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবদ্ধকতা আইনের জটিলতা। এই জটিলতা নিরসন করে দেশকে রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নিয়ে যাওয়া হবে। তবে, নিরাপদ খাদ্য রপ্তানিতে সাফল্য নিশ্চিত করতে হলে কীটনাশক ব্যবহারে সর্তক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আম রপ্তানির উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে চলতি মৌসুমের আম রপ্তানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিক ই মোহামেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, আম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের মধ্যে আম অন্যতম সম্ভাবনাময় পণ্য। দেশে ব্যাপক পরিমাণে আম উৎপাদন হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে সরকার মানসম্মত আম উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ৩৮টি দেশে আম রপ্তানি হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চীনের সঙ্গে আম রপ্তানিসংক্রান্ত চুক্তির ধারাবাহিকতায় সেখানে রপ্তানি শুরু হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, জাপানসহ নতুন কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের আম আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আম রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘আম রপ্তানি বাড়াতে অংশীজনের করণীয়’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিক ই মোহামেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান।
বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা বাড়ানো গেলে কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে ভ্যালুচেইন উন্নত হবে এবং কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আম অত্যন্ত সুস্বাদু এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। দেশে ৭২টি জাতের আম উৎপাদন হলেও বর্তমানে সাত থেকে আটটি জাত নিয়মিত বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তিনি জানান, একসময় দেশে রপ্তানিযোগ্য মানের আম উৎপাদন সীমিত ছিল, তবে এখন কৃষকেরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আম উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় গ্যাপ (GAP) অনুসরণ করে আম চাষ, প্যাকিং হাউস নির্মাণ এবং কৃষক ও রপ্তানিকারকদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাত টন আম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই চলতি মৌসুমে প্রায় ৪১ দশমিক ৫ মেট্রিক টন আম ইতালি, সুইডেন, কানাডা, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, লেবানন, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, বিমান ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে থাকা এবং পর্যাপ্ত কার্গো স্পেস নিশ্চিত করা গেলে চলতি বছর আম রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।