যশোর-২ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেছেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ওষুধের মাত্র ২২ শতাংশ মজুদ রয়েছে। অন্যদিকে জনগণকে বিপুল অর্থ নিজেদের পকেট থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার স্বাস্থ্য বাজেটের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। এর ৬২ শতাংশ সরবরাহ করেছে সরকারের মালিকানাধীন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। এই প্রতিষ্ঠান বাজারদরের প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করছে। এসব ওষুধ বাজারমূল্যে সরবরাহ করা হলে একই অর্থে জনগণ আরো প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ওষুধ পেতে পারত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরে এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ সদস্য ফরিদ জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় ৫২৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ রয়েছে। অধিকাংশ দেশই এই তালিকা অনুসরণ করে। কিন্তু বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এক বছর ধরে তালিকাটি পর্যালোচনা করে ২৯৫টিতে নামিয়ে আনে। এরপর বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তা আরও কমিয়ে ১১৭টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন।
তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ওষুধ কিনেছে, যা আনুপাতিক হারে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যয়।
সরকারের ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতেও বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকার কথা তুলে ধরে মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, এ খাতে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। কিন্তু জনগণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ নিশ্চিত করতে সেখানে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
তিনি সরকারের প্রতি তিন দফা পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। সেগুলো হলো- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫২৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা অনুসরণ করে দেশের তালিকা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে; চলতি বছরের বর্ধিত বাজেট থেকে ভর্তুকি বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করে জনগণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সহজলভ্য করতে হবে এবং একই সঙ্গে ইডিসিএলের ওষুধ সরবরাহের মূল্য নিয়েও ব্যবস্থা নিতে হবে।