জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬,৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করার সুপারিশ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। জামায়াতের অনুরোধে কমিটির সদস্য ও দল থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম এমপিকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
এদিকে সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
জানা গেছে, বৈঠকে জামুকার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০১০ সালে জামুকা গঠনের পরে ১৮ হাজার ৪১৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬৮ জন শহীদ, ১৯৮ জন যুদ্ধাহত, ৫২৯ জন বীরাঙ্গনা ও ১৬ হাজার ৯২২ জন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা। বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি আবেদন অপেক্ষমাণ আছে।
বৈঠকে আরো জানানো হয়, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত উপকমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্তির জন্য অপেক্ষমাণ আছে। ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ২০২টি আবেদন শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ আছে।
কমিটির সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ফজলুর রহমান, আবদুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক
গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় করা হয়।
সূত্র জানায়, বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ডিলার নিয়োগে কোনো নীতিমালা ছিল না। তারা যথাযথভাবে দায়িত্বও পালন করেনি। বর্তমানে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। বিগত সরকারের আমলের ডিলারদের মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে আর তাদের ডিলারশিপ দেওয়া হবে না।
সূত্র আরো জানায়, বৈঠকে টিসিবিতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও পণ্য দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে অন্যান্য পণ্য বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে চায় টিসিবি। টিসিবি চেয়ারম্যান সভায় বিষয়টি অবহিত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রতিযোগিতা কমিশন প্রতিষ্ঠার পর গত ১০ বছরে এর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়, কমিশনের মাধ্যমে আদায়কৃত জরিমানার পরিমাণ এবং নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার বিস্তারিত তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া টিসিবির ক্ষেত্রে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনা, ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
কমিটির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, বরকত উল্লাহ বুলু, আবুল হোসেন খান, আবুল কালাম, হেলেন জেরিন খান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, গাজী এনামুল হক ও আব্দুল মুনতাকিম।