হোম > জাতীয়

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে কোরবানির পশু বেচাকেনার ধুম

আল-আমিন শিবলী

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বাজারগুলো। রাজধানীর মেঘাচ্ছন্ন আকাশ মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি নামলেও ঘরে আটকানো যাচ্ছে না ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা উপেক্ষা বিভিন্ন পশুরহাটে অবিরাম ছুটে চলছেন তারা।

গতকাল সোমবার রাজধানীতে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এতে সড়ক তলিয়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল, মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে অনেক যানবাহন। সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও ঈদযাত্রার যাত্রীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। গতকালের পর আজকেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টির কারণে ঈদের বন্ধের দ্বিতীয় দিনে ভোগান্তিতে পড়েছে ঘরমুখী মানুষ। এছাড়া টানা বৃষ্টিতে পশুর হাটগুলোতে কাদা-পানি জমে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ভোগান্তির মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে পশু।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী, শাহজাহানপুর, দিয়াবাড়ী, আফতাবনগর, মেরাদিয়া ও রহমতগঞ্জ পশুরহাট ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের ভেতরে কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা বৃষ্টির পানি, আবার কোথাও পশু রাখার জায়গা পর্যন্ত ডুবে গেছে। হাটের এমনাবস্থায়ও পশু ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষণীয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় এমনাবস্থায় মধ্যে রাত পর্যন্ত কেনা-বেচা চলবে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট ও মাঝারি গরুর বিক্রি বেশি হচ্ছে। গরু কিনতে আসার এক ক্রেতা জানান, হাটে গরু বিক্রি হচ্ছে, তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা উপেক্ষা করে পশুরহাটে আসা আরেক ক্রেতা জানান, আর একদিন পর ঈদ এ কারণেই পশুরহাটে ছুটে আসা। শেষ মুহূর্তে নিজের চয়েস মতো পাওয়া যায় না। বাজার ঘুরে দেখে পছন্দমতো কিনবো। এদিকে, এখনও অনেক ক্রেতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। বেশিরভাগ মানুষ কয়েকটি হাট ঘুরে দাম যাচাই করছেন। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ঈদের আগের দিন বেচাকেনা আরও বাড়বে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা কম দেখা গেলেও বিকেলে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হাটের ভেতরে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও জমে যায় পানি। এতে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাপারীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। বিকেলের দিকে বৃষ্টি থামার পর আবারও জমে উঠতে শুরু করে হাট। কাদা-পানির মধ্যেই ক্রেতাদের গরু কিনতে দেখা যায়। অনেকেই শেষ মুহূর্তের ভিড় ও সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিকেলেই পশু কেনার চেষ্টা করেন।

গাবতলীতে গরু কিনতে আসা ক্রেতা মিরাজ সিকদার জানান, হাটে ঢুকতেই কাদা আর পানি। জুতা নিয়ে হাঁটাই কঠিন। গরু ভালোভাবে দেখাও যাচ্ছে না। কয়েক জায়গায় এত কাদা যে দাঁড়ানোই যাচ্ছে না। আরেক ক্রেতা মীর মোহাম্মদ খোকন বলেন, বৃষ্টির কারণে পশুগুলোও অস্বস্তিতে আছে। অনেক গরুকে কাঁপতে দেখা যাচ্ছে। এতে পশুর স্বাস্থ্য নিয়েও চিন্তা হচ্ছে।

শাহজাহানপুর হাটে গরু কিনতে আসা ক্রেতা আবু তাহের মিয়া বলেন, কাল আবহাওয়া কেমন থাকবে, বলা যাচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে দামও বেড়ে যেতে পারে। তাই কষ্ট হলেও আজই গরু কিনতে এসেছি।

বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে পশুরহাটে ভিড় বাড়ে। আজ দুপুরের বৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য বেচাকেনা কমে গেলেও সন্ধ্যার পর আবারও হাটে প্রাণ ফিরেছে। তবে টানা বৃষ্টি হলে শেষ সময়ের বেচাকেনা নিয়ে এখনো উদ্বেগ কাটছে না ব্যাপারীদের।

বিক্রেতারা আরও জানান, পশু খাদ্যের দাম বাড়ায় গতবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তবে দামে মিললেই বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগেই সব গরু বিক্রির প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। তবে শঙ্কা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসলে গুনতে হবে লোকসান।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে গাবতলী পশুরহাটে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ও হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম ভোগান্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রয়োজনীয় সবব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সকালে গাবতলী পশুরহাট পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে।

কাদা-পানিতে গরু নিয়ে বিপাকে বেপারিরা

ছাগলকাণ্ডের ধাক্কা, এবার পরিচয় গোপন করছেন বড় পশুর ক্রেতারা

এআই ক্যামেরার বার্তা ফোনে পেলে কীভাবে সত্যতা যাচাই করবেন

বিগত দুই সরকার লুটপাটের জন্য টিকা কেনেনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গাবতলী পশুর হাট নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু

চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি

ঈদে নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারকিতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সদরঘাটে লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ

মিরপুরে ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে মানুষ