বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে দুদেশের সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব আরো গভীর করতে তার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার তিনি এ অভিনন্দন বার্তা পাঠান।
অভিনন্দন বার্তায় শি জিনপিং বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুতপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ। পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও এ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অটুট রয়েছে। তিনি বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫১ বছরে দুদেশ সব সময় একে অপরকে সম্মান করেছে এবং সমতার ভিত্তিতে আচরণ করেছে। নিজ দেশের স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরস্পরকে সহযোগিতা করেছে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এগিয়ে নিতে, কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করতে এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করতে আগ্রহী তিনি।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ
এদিকে গতকাল বিকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী । এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন কার্যক্রম, আদালত পরিচালনার বিষয়াদি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম বাসসকে এসব তথ্য জানান।
প্রধান বিচারপতি এ সময় রাষ্ট্রপতির কাছে অতিরিক্ত মামলাজট, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও কাঠামোগত সংকটসহ বিচারাঙ্গনে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
এছাড়া রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। গতকাল বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলমের বরাত দিয়ে এ খবর জানায় বাসস।
সাক্ষাৎকালে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত।
সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দুদেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সফর আরো সুগম এবং হজযাত্রীদের কষ্ট লাঘবে, বিশেষ করে মিনায় গোসলখানা ও শৌচাগার সুবিধা উন্নয়নের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।