হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ, হালাল স্ট্যান্ডার্ড এবং হালাল সনদ প্রদান-সংক্রান্ত বিষয়কে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশোধিত কার্যবিধি অনুযায়ী, রুলস অব বিজনেসের শিডিউল-১-এ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন-সংক্রান্ত তালিকায় ‘৩৪. মিনিস্ট্রি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স ’ শিরোনামের অধীনে নতুন একটি দায়িত্ব সংযোজন করা হয়েছে। বিদ্যমান আইটেম নম্বর ২২-এর পর নতুন আইটেম নম্বর ২৩ হিসেবে ‘ম্যাটারস রিলেটিং টু হালাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড সার্টিফিকেশন’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর ফলে দেশে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ, হালাল স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং হালাল সনদ প্রদান-সংক্রান্ত বিষয়গুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহ এ দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতা করবে।
হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজার ক্রমেই সম্প্রসারিত হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল মান ও সনদ ব্যবস্থার গুরুত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুসলিম ভোক্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের হালাল পণ্য ও সেবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও একটি সুসংগঠিত ও মানসম্মত হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন হালাল স্ট্যান্ডার্ড ও সার্টিফিকেশন অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ খাতে সরকারি নীতিগত সমন্বয় আরও সুসংহত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর মাধ্যমে হালাল পণ্যের মান, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ, সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং ভোক্তাদের আস্থা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সূত্রমতে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে হালাল সার্টিফিকেশন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন উৎপাদনকারী ও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের হালাল পণ্য ও সেবার বিষয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সনদ প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে ইসলামিকফাউন্ডেশন এর হালাল পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন, সনদ প্রদানের প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।