রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে শুক্রবার কাল ৬ টা থেকে বিকাল ৩ টার মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। এতে চলমান ভ্যাপসা গরমে কমেনি; বরং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যে গরম আরো তীব্র হয়েছে।
বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্প বাড়তির দিকে থাকায় সহসাই ভ্যাপসা গরম কমার সম্ভাবনা নেই।
তবে চলতি মাসের শেষের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে; ওই সময় গরম কিছুটা কম অনুভুত হলেও তা অব্যাহত থাকবে। আজ বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ; রাতে আরও বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আজ রংপুর ময়মনসিংহ রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে বর্ষা মৌসুমের আগাম প্রভাব এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি, আবার কোথাও কোথাও ভারী বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে জুনের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের প্রভাব থাকবে।
আজ আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতির যে সিমটম লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে ২৮ মে থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রংপুর ময়মনসিংহ সিলেট এবং রাজশাহী বিভাগের আংশিক এলাকায় মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসময় রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টি হলেও হতে পারে; সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
তিনি আরও বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ ভ্যাপসা গরমের প্রভাব থেকে যাবে। এরপর বর্ষার প্রভাবে গরম কমতে পারে।
এই আবহাওয়াবিদ আরও জানান, সকাল থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত রাজধানীর কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটা চাহিদার তুলবায় খুবই সামান্য বৃষ্টি।
তিনি বলেন, রাজধানী আকাশে মেঘ থাকলেও এই মেঘ ভ্যাপসা গরম বাড়াতে পারে। এই মেঘ নিম্নস্তরে আছে। এখান থেকে সাধারণত বৃষ্টি হয় না। রাজধানীতে তাই বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এদিকে মে মাসের প্রথম দিনের মতো গত বুধবার তাপপ্রবাহ ছিল রাজধানীতে। ওই দিন এ রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে গতকাল বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ২ দশমিক ২ ডিগ্রি কমে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আগের দিনের তুলনায় ২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা কমলেও আজ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে হয়েছে ৩৪ দশমিক ৭, তাতে ভ্যাপসা গরম কমেনি।
এর কারণ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, বাতাসে আর্দ্রতা প্রচুর। এ থেকে গরমের অনুভূতি বাড়ছে।
গতকাল দেশের খুলনা বিভাগে খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরা চার জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। আজও ওই সব এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল খুলনার কয়রায়, ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।