লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি না বাড়লেও মেঘলা আকাশে আগের কয়েকদিনের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে, যাতে তীব্র ভ্যাপসা গরম থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন দিন ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, বিশেষ করে আগামী মঙ্গল ও বুধবার সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানান, লঘুচাপটি আগামী মঙ্গলবার স্থলভাগে উঠে যেতে পারে, যার প্রভাবে মঙ্গল ও বুধবার সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে এবং চলমান ভ্যাপসা গরমের মাত্রাও কমে আসবে। তবে এরপর আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আবার কমে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জারি করা সতর্কবার্তায় জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে এবং পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষরেখা রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত, আর মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় আছে। এতে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এর প্রভাবে আগামীকাল সোমবার রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি, কোথাও কোথাও মাঝারি ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে, আর দিন-রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবারও রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় একই ধরনের বৃষ্টি ও তাপমাত্রা সামান্য কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় কুড়িগ্রামের রাজারহাটে, ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর রাজধানীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৮ ডিগ্রি, যা তার আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কম। শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৬.৮ ডিগ্রি, রাজধানীতে ৩৫.১ ডিগ্রি। আবহাওয়া দপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী ৩৬-৩৭.৯ ডিগ্রিকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়, আর এই হিসাবে রোববার শুধু কুড়িগ্রামের রাজারহাট (৩৬.৫) ও রংপুরে (৩৬ ডিগ্রি) মৃদু তাপপ্রবাহের মাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা আগের দিনগুলোর তুলনায় কমেছে।
চলতি মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে বারবার লঘুচাপ সৃষ্টি ও তার প্রভাবে বৃষ্টি-গরমের এই ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার একই ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে উপকূলীয় এলাকায় সাময়িকভাবে বৃষ্টি বাড়িয়েছে, এরপর তা দুর্বল হয়ে গেলে আবার ফিরে এসেছে ভ্যাপসা গরম। সবশেষ শনিবার নতুন করে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ফের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করা হয়, যা এই মৌসুমের বারবার পুনরাবৃত্ত লঘুচাপ-বৃষ্টি-গরমের চক্রেরই সর্বশেষ সংযোজন বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। উপকূলীয় এলাকার নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।