দ্রুত ও আধুনিক টোল আদায় নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেম চালুর লক্ষে পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তের জেলাগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল থেকে বুধবার পর্যন্ত ৬ দিনে ৫৪৬টি গাড়িতে ইটিসি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফরিদপুরের একটি পরিবহনের বাস ডিপোতে পোর্টাবেল আরএফআইডি স্ক্যানার দিয়ে শুরু হয় মাঠ পর্যায়ের ইটিসি রেজিস্ট্রেশন। মাওয়া প্রান্তে অবস্থিত নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন বুথে সপ্তাহের যেকোনো দিন রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে মাদারীপুর টার্মিনাল, ঢাকার রাজারবাগ, সয়দাবাদ, যাত্রাবাড়ী ফিল্ড ইটিসি রেজিস্ট্রেশন করা হবে।
ট্যাপ, বিকাশ, নগদ, উপায়সহ বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে টোল প্রদান করা যাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন পরিবহনের বাস ও অন্যান্য যানবাহন নন-স্টপ ইটিসি ব্যবহার করে ৬০ কিলোমিটার/ঘণ্টার অধিক গতিতে না থেকে পদ্মার টোল প্লাজা অতিক্রম করার সুবিধা উপভোগ করছে।
পদ্মা সেতুতে ইটিসি ব্যবহারের ফলে যাত্রীরা যেসব সুবিধা পাবে, তার মধ্যে রয়েছে—টোল প্লাজায় গাড়ি না থামিয়ে সরাসরি পার হওয়া যাবে, ফলে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করার ঝামেলা থাকবে না; স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ হওয়ায় যানজট কমবে এবং মূল্যবান সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে; নগদ টাকা বহনের প্রয়োজন নেই; ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেওয়া হবে; প্রতিটি ট্রানজ্যাকশনের পর গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে টোল আদায়ের পরিমাণ জানিয়ে দেওয়া হবে।
সেতু বিভাগের সচিব ও সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, ইটিসি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুতে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো দ্রুততম সময়ে পারাপার হতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।