জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১) এর আওতায় প্রাপ্ত নোটিশের ওপর আলোচনার ক্ষেত্রে সিরিয়াল পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
রোববার সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রাপ্ত নোটিশ নিষ্পত্তি পর্বে অনির্ধারিতভাবে দাঁড়িয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমি জানি এই সিরিয়াল ক্রম অনুযায়ী হবে। এই ক্রম পাওয়ার জন্য সকাল ১০টায় এসে লাইন দিই, কি-যে বিড়ম্বনা....। তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আমি জানতে চাই, আমার সিরিয়াল কত, আমাকে ডাকেন নাই কেন?
জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, আমি অফিস থেকে জানতে পেরেছি, যারা প্রথমবার দেন তাদেরটা আগে যায়। আপনি একাধিকবার দিয়েছেন। আপনার সিরিয়াল ১৬, আপনাকে ডাকা হবে। দয়া করে আপনি বসুন।
এ সময় মনিরুল হক সাক্কু আরও বলেন, আমরা কষ্ট করে নোটিশ দিচ্ছি, আমি সাতবার দিয়েছি। এ সময় সংসদে কিছুটা হইচই হয়।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে কথা বলার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগের।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য অনুযায়ী স্পিকার সবাইকে সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখার এবং কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
এসময় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম নতুন সদস্যদের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, সংসদে ২২০ জন নতুন সদস্য আছেন। তারা তাদের নির্বাচনি এলাকা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে চান। কিন্তু অনেকেই বারবার সুযোগ পেলেও, কেউ কেউ একবারও কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না।
চিফ হুইপ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, যিনি নোটিশ আগে দেবেন, তারটা যেন সিরিয়াল অনুযায়ী আগে আসে। বিষয়টি যদি কিছুদিন অনুসরণ করা হয়, তবে নতুন সদস্যরা উৎসাহ পাবেন এবং সংসদ আরও প্রাণবন্ত হবে।
পরে নোটিশের ওপর আলোচনা পর্বে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, চতুর্থবার আমি সংসেদে। আমি কোনো অন্যায় করিনাই, ভুলও বলিনাই।