জেনারেল মঈনের সাক্ষ্য
বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের সময় সেনা অভিযান হলে ভারতের হামলার হুমকি ছিলো। রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ। এর মুল সমন্বয়কারী ছিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় তৎকালীন এমপি শেখ ফজলে নূর তাপস। বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত ঘটনাটি ছিলো একটি পূর্বপরিকল্পিত ও বর্বরতম হত্যাকাণ্ড। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হত্যাকাণ্ডের সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ওই ঘটনায় ভারতের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভারতের হুমকিতে ঘটনার পর পিলখানায় অভিযান করা যায়নি। জেনারেল মঈন তার সাক্ষ্যে ‘অভিযান চালাতে গেলে ভারত বাংলাদেশের ওপর হামলা চালাবে’ উল্লেখ করেছেন।
পিলখানা ট্র্যাজেডি তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রধান উপদেষ্টার কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় কমিশন তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিডিআর বিদ্রোহের পরিকল্পনাটি দীর্ঘ মেয়াদী উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়ান ইলেভেনের সময়কালে বিডিআরের ডাল-ভাত কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর কর্তকর্তাদের ওপর জোয়ানদের ক্ষোভ, প্রেষণে সেনা কর্মকর্তাদের বিডিআরে দায়িত্ব পালনের বিরোধীতা, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিডিআরের অভ্যন্তরীন বিরোধের এই বিদ্রোহ হয়েছে। এর সাথে প্রতিবেশি দেশের ইন্ধন ছিলো বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআরের সদর দপ্তরে বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমদসহ ৫৭জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এই ঘটনায় দুইটি মামলায় বিডিআর সদস্যদের সাজা হলেও নেপথ্যের নায়করা ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। এই রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত করতেই এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।
প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ছিলো। আপনারা সত্য উদ্ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন জাতি তা স্মরণে রাখবে। এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয় বহু বিষয় এসেছে। এটি জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে।