আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, যখন কেউ ছিল না, তখন নিজের এবং পরিবারের জীবন বিপন্ন করে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যিনি যুদ্ধে নেমে পড়েছিলেন, তিনি জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বারবার সংকটে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন জিয়াউর রহমান। যখন তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তখন তিনি ছিলেন একজন মেজর, স্বাধীনতার ঘোষণা মেজর জিয়ার দেওয়ার কথা ছিল না, ওই সময় পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বে যারা আসীন ছিলেন তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘোষণাটি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছেন এবং ব্যর্থ হয়েছেন তাদের স্তরে স্তরে থাকা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। ১৯৭১-এর আগুন ঝরা মার্চের আন্দোলনে সারা জাতি যখন দিশেহারা এবং দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছিল, তখন কাউকে পাওয়া যায়নি। শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ করে গ্রেপ্তার বরণ করেছেন, আবার কেউ কেউ দেশের ভেতরে আত্মগোপনে চলে গেলেন। সেই সময় সাহস করে একজন বীর, একজন দেশপ্রেমিক নিজের জীবনকে বাজি রেখে, পরিবারের জীবন বাজি রেখে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন; তিনি জিয়াউর রহমান। ঘোষণা দিয়ে তিনি পাশের দেশে চলে যাননি, তিনি চলে গিয়েছিলেন যুদ্ধের ময়দানে।
মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে তিনি বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার একটি চা-বাগানের ম্যানেজারের বাংলোতে ঠাঁই নিয়েছিলেন, সেখানে ১৩ জন তৎকালীন আর্মি অফিসারের যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সে বৈঠকে এমএজি ওসমানীকে সর্বাধিনায়ক করা হয়। সে বৈঠকে জিয়াউর রহমান প্রস্তাব রেখেছিলেন যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ হবে, তার নাম হবে মুক্তিযুদ্ধ। তখন সেই বৈঠকে জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে তিনি তার পরিবারকে পাশে পাননি, পরিবারের সদস্যদের জীবন বিপন্ন জেনেও যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আযম খান বলেন, মেজর জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি তারেক রহমানের সরকার দেশের শাসক হবে না, হবে জনগণের সেবক।
শনিবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী।
এএস