1. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত নয় : সংসদীয় কমিটির সভাপতি
2. নির্বাচন আয়োজনে আরো সময় চায় বিএনপি
3. ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে আজ ইসির বৈঠক
আগামী বছরের জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও তাতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে মনে করছে এ-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। অন্যদিকে নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে আরো সময় চায় বিএনপি।
এর মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার পরিষদের ভোটের সময়সূচি নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করতে আজ সোমবার বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে কি না, তা আজকের বৈঠকের পর জানা যাবে।
এদিকে, গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তফসিল ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম সেলিম রেজা হাবিব। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য সময় নেওয়া হলেও আগামী বছরের প্রথম দিকেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্য নির্বাচনের তুলনায় বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা এখনো পুরোপুরি নেই। তাই বাহিনীকে প্রস্তুতির সময় দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঝুঁকির কারণ ব্যাখ্যা করে কমিটির সভাপতি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বেশি থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য এবং তিনটি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি থাকে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেশি তৎপর থাকতে হয়।
সেলিম রেজা হাবিব জানান, বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করেন। তার প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী বছরের প্রথম দিকেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশও করা হয়। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিয়ে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরো সময় চায় বিএনপি
এদিকে, গত শুক্রবার বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও সময় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের আগে আরো সময় নেওয়ার পক্ষে মত রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রমতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি, যাতে ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় একই পদে বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এতে দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভেদ ও কোন্দল বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সম্ভাব্য বিরোধগুলো আগেভাগেই আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। নির্বাচনের আগে দলীয় ও সাংগঠনিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে সোমবার নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার বিষয়টি আলোচনায় এলে কয়েকজন সদস্য প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত কমিশনকে কোনো দায়িত্ব দেয়নি। ফলে এ পর্যায়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার কমিশনের রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে অচলাবস্থা চলছে। তাদের দাবি, বিনা ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর ও মেম্বারদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোকে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।
তবে কয়েকজন নেতা যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষেও মত দেন। তাদের মতে, ভোটের আগে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়া জরুরি।
আজ ইসির বৈঠক
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণসহ স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে আজ সোমবার বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ইসির উপসচিব মোহাম্মদ শাহ্ আলম বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছেÑস্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম, কার্ড প্রিন্টিং, নির্বাচন পদক নীতিমালার খসড়াসহ মোট ছয়টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সভায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টি আলোচনায় আসবে। পাশাপাশি পারসোনালাইজেশন সেন্টারে থাকা মেশিনগুলোর অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রিন্ট, বকেয়া বিল পরিশোধ এবং নতুন চুক্তি সম্পাদনসংক্রান্ত কমিটির কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এছাড়া ‘জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদনের বিষয়টিও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এর বাইরে বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব অর্পণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।