হোম > জাতীয়

দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও সহায়তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

সংসদে ত্রাণমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার

ছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রামসহ ভারী বর্ষণে দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ধস এবং বন্যাজনিত দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙ্গামাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিধি-৩০০ এর আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ত্রাণমন্ত্রী আরো বলেন, দুর্গত এলাকায় চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চট্টগ্রামে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ১২৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে ২ হাজার ১৭৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ৭ জুলাই দুর্গত পাঁচ জেলায় প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা করে জিআর (নগদ) এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। আজ পুনরায় চট্টগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রত্যেক দুর্গত জেলায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। পরিস্থিতির প্রয়োজনে আরও জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। খাসজমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হবে। এ কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সচেতনতামূলক ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এ সময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ৩০০ বিধিতে জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলায় বুধবার ১৩০০ মেট্রিক টন চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসনকে ২০ লাখ টাকা করে দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া হয়েছে, যেটা তারা রিসিভ করেছেন।

আগাম সতর্কতায় দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার, জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ত্রাণ নির্ভর ব্যবস্থাপনা থেকে সমন্বিত ঝুঁকি হ্রাসভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের মাধ্যমে সরকার দেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ এবং পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে ত্রাণনির্ভর পদ্ধতি থেকে সমন্বিত ঝুঁকিহ্রাসভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করেছে।

মন্ত্রী জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আগাম সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সর্বদা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প'-এর (কম্পোনেন্ট-২ ও ৩) আওতায় উপকূলীয় ১২ জেলার ৩৫টি উপজেলায় টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, মেগাফোন, সাইরেন, স্ট্রেচার, লাইফ জ্যাকেট, রেডিও সেট এবং প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সরবরাহ করা হয়েছে।’এ ছাড়া ১২টি উপকূলীয় জেলার প্রতিটিতে একটি করে উদ্ধার স্পিডবোট দেওয়া হবে, অর্থাৎ মোট ১২টি উদ্ধার স্পিডবোট সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে বন্যাপ্রবণ পাঁচ জেলায় জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ৪৩টি অগভীর পানিতে চলাচল উপযোগী উদ্ধার নৌকা সরবরাহ করা হবে।

এমএমআর

টানা বৃষ্টি আর কত দিন

বায়রা নির্বাচন ১৪ নভেম্বর, তফসিল ঘোষণা

গবেষণা বাজেট ইউজিসির মাধ্যমে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন থাকবে

বাংলাদেশি ক্রিয়েটরদের ১ কোটি ৩২ লাখ ভিডিও সরিয়েছে টিকটক

হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ঘাটতি নেই: শামা ওবায়েদ

শপথ নিলেন চট্টগ্রামের এমপি সরোয়ার আলমগীর

গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগে সমন্বিত চিকিৎসার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার কেন, প্রশ্ন জুলাই শহীদের মার

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া ফ্যাসিবাদ ঠেকানো সম্ভব নয়

প্রবাসীদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে কনস্যুলার ট্যুর ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা