বাংলাদেশ পুলিশ বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ প্রথমবারের মতো ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি কোঅপারেশন, ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ পুলিশ শীর্ষক সমন্বয় সভার আয়োজন করে। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
সভায় ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধারণা অনেক বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠছে। সহিংস উগ্রবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ আজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জটিল এ পরিস্থিতির সাথে যুক্ত হয়েছে সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অপরাধ, ডিপফেক, ভুল তথ্য ও অপতথ্য আজ আর কোনো একক দেশের নয় বরং বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় অবদান রাখছে। তিনি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সাথে অতিথিদের নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এক দেশের সাথে অন্য দেশের সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় কঠিন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকগণ বাংলাদেশ পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বাংলাদেশ পুলিশের সাথে যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় মানি লন্ডারিং, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সাইবার ক্রাইম, মানব পাচার ইত্যাদি অপরাধ মোকাবেলা এবং তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন দেশের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে বলে সুপারিশ করা হয়।
সবশেষে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।