সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকরতা নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ক্ষমতাসীনদের ইশারার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে যে “বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি” গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল, তা বাদ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দলের পূর্ণ ঐকমত্যে অন্তর্ভুক্ত এবং টিআইবির ধারাবাহিক পরামর্শের ভিত্তিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পূর্বে যে নীতিগত সম্মতি দিয়েছিল—চূড়ান্ত অধ্যাদেশে সেই গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দেওয়া শুধু হতাশাজনকই নয়, বরং রাষ্ট্রসংস্কারবিরোধী প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রের প্রতিফলন।
টিআইবির প্রশ্ন—দুদককে জবাবদিহির বাইরে রেখে সরকার কি দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে রাষ্ট্রসংস্কার কেবল ‘ফাঁকাবুলি’?
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আরও হতাশাজনক হলো—নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী অন্তত সাতজন উপদেষ্টাও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। অথচ তারা জানেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবে একমত। সরকার কি বুঝতে পারছে না—এভাবে সনদ লঙ্ঘন করে তারা নিজেরাই রাজনৈতিক দলগুলোকে সনদ লঙ্ঘনে উৎসাহিত করছে? তাহলে এত রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মূল্য কোথায়?”
তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা রুদ্ধ রেখে কীসের রাষ্ট্রসংস্কার?”
টিআইবি জানায়, অধ্যাদেশের যে খসড়া তাদের দেখার সুযোগ হয়েছিল তা বিদ্যমান আইনের তুলনায় অনেক উন্নত ছিল—সেজন্য তারা সরকারকে সাধুবাদ জানায়। তবে চূড়ান্ত অধ্যাদেশে শুধু ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ বাদ নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐকমত্য-নির্ভর কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এসব পরিবর্তন শুধুমাত্র সরকারের ভেতরের প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী মহলের দুর্নীতি-সহায়ক ও সংস্কার-পরিপন্থী অবস্থানেরই প্রতিফলন।”
এসআর