সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মাঠের প্রাপ্যতার নিশ্চিয়তাসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। অধিদপ্তরের সেকশন-২ থেকে রোববার জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে জানানো হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৬ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
নির্দেশনায়, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলোকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় চাহিদা নিরূপণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।
এ ছাড়া দেশের প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই উল্লেখ করে বিদ্যালয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্যসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে নতুন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানোর আগে সেখানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
যেসব বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নেই, তাদের ক্ষেত্রে আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের লক্ষ্যে সমঝোতা বা চুক্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে মন্দির, মসজিদ, খালি জায়গা, পতিত জমি কিংবা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার মাঠ থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় যৌথভাবে খেলাধুলার আয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের আদেশে আরো বলা হয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে মাঠের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, সেখানে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দাবা, ক্যারামসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, প্রতিদিন পাঠদান শেষে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি প্রতিবেদন দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।