হোম > জাতীয়

একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা জোরদার: প্রযুক্তির চোখ ও গোয়েন্দা নজরদারি

আমার দেশ অনলাইন

ফাইল ছবি

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ এবং ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ করতে এবার নজিরবিহীন ও আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার আর কয়েক স্তরের গোয়েন্দা নজরদারিতে পুরো এলাকাকে নিরাপত্তাবলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

শহীদ মিনারে ত্রিস্তরের কঠোর নিরাপত্তা

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ছক তৈরি করেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও শহীদ মিনারের চারপাশের প্রবেশপথগুলোতে সাধারণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তির নজরদারি: পুরো এলাকা কয়েকশ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, যা বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তল্লাশি ও প্রবেশাধিকার: প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর। কোনো ধরনের ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে মূল বেদিতে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তৎপরতা: ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি কয়েক হাজার সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য জনসমুদ্রে মিশে থাকবেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই তা নস্যাৎ করে দিতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

আকাশে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে, এবারের নিরাপত্তায় তারা গতানুগতিক কৌশলের বাইরেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ভিড়ের গতিবিধি এবং সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।

র‍্যাবের কমান্ডো টিম ও বিশেষ ডগ স্কোয়াড ইতোমধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ও এর আশপাশে কয়েক দফা ‘সুইপিং’ সম্পন্ন করেছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও স্পেশাল ফোর্সকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাল শুক্রবার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এবং র‍্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরবেন।

ট্রাফিক রুট ম্যাপ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও চলাচলে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। রুট ম্যাপ অনুযায়ী শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষকে পলাশী মোড় দিয়ে প্রবেশ করে জগন্নাথ হলের পাশ দিয়ে শহীদ মিনারের মূল গেটে পৌঁছাতে হবে। বের হওয়ার পথ হিসেবে দোয়েল চত্বর ও চানখাঁরপুল এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার মধ্যে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাসায় ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

সাইবার মনিটরিং ও সারা দেশের চিত্র

ডিএমপি ও র‍্যাব জানিয়েছে, শুধু রাজপথেই নয়, সাইবার স্পেস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অমর একুশেকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ সব বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শহীদ মিনারের পাশে মোতায়েন থাকবে ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকির খবর নেই। তবু বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে আসা প্রত্যেক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপে সুজন-এর উদ্বেগ

আজিমপুরে পিকআপের ধাক্কায় অটোচালক নিহত

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা

রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

'এখন টিভি'র সাংবাদিকদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে ডিআরইউ'র উদ্বেগ

তারেক রহমানকে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

চিকিৎসকদের সেবা সরেজমিন তদারকি করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ এমপির মধ্যে ২৭১ জন কোটিপতি

ডিসি সারোয়ারকে শোকজ