হোম > জাতীয়

সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে নাগরিকরা আশ্বস্ত হতে পারছে না

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার

সংস্কার সমন্ধে সংবিধানের দোহাই দিয়ে মূলত সংস্কারকে সরকার অস্বীকার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগ নিয়ে দুটো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেগুলো বাতিল করেছে। সরকার বলেছে, এ বিষয়ে তারা আরও ভালো আইন করবে। কিন্তু সরকার আশ্বাস দিলেও তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে নাগরিকরা আশ্বস্ত হতে পারছে না।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাক্সক্ষা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা।

এ সময় সুজন এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, সংস্কারকে সংশোধনের নামে ব্যর্থ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যারা সংস্কারকে সংশোধনের নামে ব্যর্থ করে দিতে চান, তাদের এ চক্রান্ত জাতি মেনে নেবে না। কারণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য অনুচ্ছেদ ১৪২ যথেষ্ট নয় বলেই গণভোট হয়েছে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার ব্যাপারে সংবিধানের বিধান থাকলেও ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত কোনো সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ১৯৯৫ সালে মাজদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একটি যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে একটি নির্দেশ জারি করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল বিভাগে রায়টি চ্যালেঞ্জ করে। সেই মামলায় আপিল বিভাগ ১২টি নির্দেশনা দিয়ে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার মানসে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন। ওই রায়ের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারপতিদের নিয়োগ এবং অন্য একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আলাদা সচিবালয় করার নির্দেশ দেন।

‎এম এ মতিন বলেন, বিএনপি সরকার এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দুটি অধ্যাদেশকে অ্যাক্ট অব পার্লামেন্ট না করায় আইন বাতিল হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ ৭২ বছরে জাতীয় অর্জনকে এভাবে বর্জন করায় গোটা জাতি হতবাক ও মর্মাহত।

‎তিনি আরো বলেন, মাজদার হোসেন মামলার ১২টি নির্দেশনাবলি এবং পরবর্তীতে সুপ্রীম কোর্টের সকল আদেশাবলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা নির্বাহী বিভাগের অবশ্যই কর্তব্য। আর এগুলো অমান্য করা সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বৈঠকে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সাংবিধানিক হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। আর বিচার বিভাগ হলো সংবিধানের অভিভাবক। বিচার বিভাগের সততা বজায় রাখার জন্য এর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দরকার। একইসঙ্গে দরকার বিচার বিভাগের প্রতি জনআস্থা গড়ে তোলা। আমাদের এমন বিচার বিভাগ গড়ে তোলা দরকার, যাতে একজন রিকশাচালক থেকে সমাজের সব স্তরের মানুষ বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা রাখতে পারে।’

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সরকার বলছে তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। সরকার আশ্বাস দিলেও তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা নাগরিকরা আশস্ত হতে পারছি না। সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে তাদের উচিত হবে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা।

এসময় গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ভূতপূর্ব সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী, ভূতপূর্ব বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন ড. ওয়ারেসুল করীম, নাগরিক কোয়ালিশনের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হাসিব প্রমুখ।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থ বিল পাস

অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার কুশল বিনিময়

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব

পিএসসি সচিব সানোয়ার জাহানের বিদায় সংবর্ধনা

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক, অধিদপ্তরের একগুচ্ছ নির্দেশনা

দেশে জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে আইপিভিএস চ্যাপ্টারের যাত্রা শুরু

শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশিদের জন্য ডিজিটাল সামাজিক ব্যবসা প্ল্যাটফর্ম ‘স্পার্ক’ চালুর উদ্যোগ

মুস্তাফা মনোয়ারের ইন্তেকালে বিরোধীদলীয় নেতার শোক

অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর