যেকোনো মোবাইল অপারেটরের সিম নম্বর ঠিক রেখে অন্য মোবাইল অপারেটরের নম্বরে রূপান্তর প্রক্রিয়াকে বলে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা। গ্রাহকরা মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে স্বাধীনভাবে তাদের সুবিধা অনুযায়ী অপারেটর পরিবর্তন করতে পারেন।
এর মাধ্যমে উন্নত গ্রাহক সেবার পাশাপাশি মোবাইল অপারেটররা তাদের নেটওয়ার্কে কোয়ালিটি অফ সার্ভিস নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকেন। ২০১৭ সালে বিটিআরসির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে একাধিক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়।
এমএনপি লাইসেন্সিং গাইডলাইনে এ সেবাকে একটি রেগুলেটরি টুল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কেননা, এমএনপিকে ব্যবহার করে সেবার মান উন্নয়নসহ অপেরাটরদের রেগুলেট করা সম্ভব হয়। কিন্তু এমএনপি সেবা বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত এটি সফলতা পায়নি। এ সেবা উন্নত বিশ্বে বেশি ব্যবহার হলেও বাংলাদেশে খুব একটা বিকাশ ঘটেনি।
বিশেজ্ঞরা বলছেন, বিটিআরসি কর্তৃক ২০১৮ সালের এমএনপি বিষয়ক নির্দেশিকা বাতিল করে মোবাইল অপারেটর কর্তৃক এমএনপি সেবায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে বাধা দূর করতে হবে। বিটিআরসি কর্তৃক এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে দেশ এবং গ্রাহকের স্বার্থে এ সেবায় উচ্চকরের বিষয়ে এমএনপি গ্রাহকদের মাস্কিং এসএমএস প্রাপ্তির বিষয়টি বিটিআরসি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এমএনপি সেবাগুলোকে (পোর্টিং এবং ডিপিং) সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। এটুপি এসএমএস সেবায় বিদ্যমান ডাইরেক্ট ক্লায়েন্ট বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রযুক্তিবিদ তানভীর জোহা জানান, এমএনপির বিষয়ে মানুষ সচেতন নয়। জ্ঞানেরও অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ নিলে জনগণের অর্থ অপচয় রোধ হবে।
জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী আমার দেশকে জানান, এ সেবা দেওয়ার জন্য বিটিআরসি থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া আছে। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
এ খাতের সংশ্লিষ্ট্রদের সঙ্গে কথা বলে এমএনপি সেবা বাংলাদেশে সফলতা না পাওয়ার বেশকিছু বাধার কথা জানা গেছে।
বিটিআরসি এবং মোবাইল সেবা প্রদানকারী অপেরেটরদের উদাসীনতা
বিটিআরসির লাইসেন্সিং গাইডলাইন অনুযায়ী এমএনপি সেবাকে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করার বিষয়ে এবং মোবাইল অপারেটদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কর্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বিশ্বের অন্য দেশগুলোয় এমএনপি সেবাকে জনপ্রিয় করার জন্য যেখানে মোবাইল অপেরাটররা বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে থাকে, সেখানে বাংলাদেশে বিটিআরসি কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে মোবাইল অপেরাটররা কোনো ধরনের প্রণোদনা দিতে পারে না।
এনবিআর কর্তৃক এমএনপি সেবায়
উচ্চ করারোপ
প্রথম দিকে সিমে উচ্চ করহার এমএনপি সেবাকে ব্যয়বহুল করে তুলেছিল, যা মোবাইল ব্যবহারকারীদের নম্বর পরিবর্তনে নিরুৎসাহিত করেছিল। ফলে সে সময় নম্বর পোর্ট করার অনুরোধের সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। এ অবস্থার উন্নতির জন্য এবং সেবা সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও জনগণের কাছে আকর্ষণীয় করার উদ্দেশ্যে এনবিআর সিমের কর মওকুফ করেছিল। ফলে গ্রাহকরা কম খরচে এমএনপি ব্যবহার করতে উৎসাহিত হয়েছিলেন এবং পোর্টিং সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আগে প্রযোজ্য সিমের কর মওকুফ বাতিল করা হয়। ফলে পুনরায় সিমের কর প্রদানে বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং পোর্টিং সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বর্তমানে এমএনপি সেবা গ্রহণ করতে হলে গ্রাহকপর্যায়ে এমএনপি ফি বাবদ ৪৫০ টাকা প্রদান করতে হয়, যা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
অথচ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় এ সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। বিটিআরসি এবং এনবিআরের কাছে বিষয়টি দেশ এবং গ্রাহকের স্বার্থে পুনর্বিবেচনার জন্য বলা হলেও অদ্যাবধি এর সমাধান হয়নি।
এমএনপি নম্বরে এসএমএস গ্রহণের ক্ষেত্রে মাস্কিং সুবিধার অনুপস্থিতি
বিটিআরসির একটি নির্দেশনার কারণে এমএনপি নম্বর ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন সংবেদনশীল আর্থিক, সামাজিক এবং অন্য প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্ম থেকে মাস্কিং এসএমএস গ্রহণ করতে পারেন না। ফলে এমএনপি গ্রাহকরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন, যা এমএনপি সেবা বাস্তবায়নে অন্তরায় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বারবার বিটিআরসিকে বলা হলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি।
এমএনপি সেবাগুলোকে সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা
পোর্টিং এবং ডিপিং এমএনপি সেবায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিদ্যমান পোর্টিংয়ের বাধাগুলো পর্যালোচনা না করে ডিপিং সার্ভিসের বিষয়ে কোনো পরিবর্তন মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি সেবার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না।