দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং অষ্টমী, নবমী ও দশমী—এই তিন দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। পূজার আগে-পরে এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ কারণে এবার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সংগঠনটির।
নেতারা বলেন, পূজার অন্তত ১০ দিন আগে থেকে পূজা চলাকালীন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্দির ও পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়নে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং দুর্গাপূজার নিরাপত্তা সমন্বয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সময়ে কুষ্টিয়া, সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, রংপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানো হয়। এসময় গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও তুলে ধরে, এসব ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যা ও মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা এবং গত ২৬ সেপ্টেম্বর ড্রামের ভেতর নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তুলে ধরে এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির দাবি, গত নয় মাসে হত্যা ও মরদেহ উদ্ধারের ৪৬টি ঘটনা ঘটেছে।
দুর্গাপূজায় তিন দিনের সাধারণ ছুটির দাবিতে নেতারা বলেন, এ বছর এক দিনের নির্বাহী আদেশের ছুটিসহ মোট তিন দিন ছুটি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। তবে নির্বাহী আদেশের ছুটি ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। তাই ২০২৭ সাল থেকে অষ্টমী, নবমী ও দশমী—এই তিন দিন সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট ও হিন্দু ছাত্র মহাজোটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।