বাজেটের উপর প্রণয়ন করা বই সকলেই পড়েন না উল্লেখ করে পাবনা-১ আসনের (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেছেন, এই ডকুমেন্ট আমরা পড়িও না পড়ার প্রয়োজনও অনুভব করিনা। কারণ এই বাজেট আমরা প্রণয়ন করি না, আমাদের ভূমিকা শুধু বাজেট পাস করার, রাবার স্ট্যাম্পের। আমাদের যদি সত্যিকার অর্থে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হয় তাহলে আমাদের এই সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করতে হবে। আইন করে মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিগুলোতে এই বাজেট নিয়ে পর্যালোচনা করার ব্যবস্থা করতে হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ওপর সাধারণ আলোচনায় এসব কথা বলেন নাজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা সংসদ সদস্যরা যে বাজেট নিয়ে বিতর্ক করছি, বাস্তবে সেই বাজেট প্রণয়নে আমাদের অংশগ্রহণ কতটুকু? আমাদের মত সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশগুলোতে বাজেট প্রণয়নের সংসদ সদস্যদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা থাকে।
নাজিবুর রহমান বলেন, যুক্তরাজ্যে অর্থবিল সংসদের স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফ্লোরে আনা হয়। অন্যান্য অনেক দেশে সাধারণ আলোচনার পর বাজেট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখানে বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে তা পুনরায় সংসদে আসে। অথচ আমাদের দেশে বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা। আমাদের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকে কয়েক মিনিটের গলাবাজির মধ্যে।
তিনি বলেন, সরকার দলীয় সদস্যরা এই বাজেটকে যুগান্তকারী বলছেন। আসলেই কি? গত এক দশকের বাজেটগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, কিছু সংখ্যা ও ভাষাগত পরিবর্তন ছাড়া কাঠামোগতভাবে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, এই বাজেটও পূর্ববর্তী বছরের মতোই গতানুগতিক, শুভংকরের ফাঁকি, গণবিরোধী আর আগামী বছরের লুটপাটের পরিকল্পনা।
নাজিবুর রহমান বলেন, এই বাজেটকে তাই মূল্যস্ফীতি হিসাব করলে সবচেয়ে বড় বাজেট বলা যাবে না। এটা বরং সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট, সবচেয়ে বেশি লোন নির্ভর বাজেট।
দেশে দুই ধরনের কর পদ্ধতি বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮ কোটি লোকের দেশে প্রত্যক্ষ কর দেন দেশের মাত্র ২৪ লাখ লোক। প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রেও অনেক চালাকি করা হয়েছে, মধ্যবিত্তদের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপান হয়েছে। পরোক্ষ কর দেন ধনী-গরিব নির্বিশেষে দেশের সবাই। এই ভ্যাটের আওতা আপনারা বাড়িয়েছেন, গ্যাস সিলিন্ডারসহ ২০ টি পণ্যের উপর ভ্যাট বেড়েছে, এই ভ্যাট একজন ভিক্ষুক চাল ডাল নুন তেল কিনতে যে পরিমাণ দেয়, একজন কোটিপতিও একই পরিমাণ দেয়, এটা কি তাহলে গরিব বান্ধব বাজেট হল? অনেক কার্ডই দিচ্ছেন সরকার, একটা ভ্যাট মওকুফ কার্ড যদি গরিব মানুষের জন্য দিতেন তাহলে ভাল হতো।
জামায়াতের এই এমপি বলেন, সুদের অভিশাপ থেকে জাতিকে বাঁচাতে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যদি আমরা অভাবগ্রস্ত হই তাহলে পর্যায়ক্রমে সুদ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমরা পদক্ষেপ নেই আল্লাহ সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্রে জাকাত আমাদের দারিদ্র বিমোচনের ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, এখন দেশে যেভাবে লুটপাট হয় জনগণ তো সরকারকে জাকাত নিয়ে বিশ্বাস করবে না। সরকার এক ইসলামী ব্যাংকে হাত দিলেন আর জনগণ ৭ দিনে ৪ হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নিল। এ জন্য আমার প্রস্তাব হল দেশের শীর্ষ স্থানীয় ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে জাকাতকে আরও গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
জামায়াতের এমপি বলেন, এই সংসদে মসজিদে রাজনীতি বন্ধের দাবি উত্থাপিত হয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবিও করা হয়েছে। আপনার মাধ্যমে আমি বলতে চাই, এই ধরনের ফ্যাসিবাদী দাবি আগেও একটি দলের নেতাকর্মীদের আমরা করতে দেখেছি। আজকে জনগণ তাদেরকেই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।
এএস