গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কামনা
কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ মাইকিং করে উচ্ছেদ এবং গাবতলীতে মার্কেট স্থানান্তরের উদ্যোগকে একটি বিশেষ চক্রের গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। একই সঙ্গে কারওয়ান বাজারের মধ্যেই উন্নত বিশ্বের আদলে একটি আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে স্থায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বর্তমান আয়তন ঠিক রেখে সেখানেই পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ কয়েক দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
দেশের মানবিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে আজ সোমবার বেলা ১১টায় কিচেন মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা।
ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলহাজ মোহাম্মদ শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, কারওয়ান বাজারের ব্যবসার ইতিহাস প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো। আশির দশকে সালামি ও নির্মাণ-উন্নয়ন খরচ দিয়ে ব্যবসায়ীরা স্থায়ী বরাদ্দ পেয়েছিলেন এবং তখন থেকেই তারা নিয়মিত সিটি করপোরেশনের রাজস্ব, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, আয়কর-ভ্যাট-ইউটিলিটি চার্জ ও মার্কেট রক্ষণাবেক্ষণ ফি পরিশোধ করে আসছেন।
তার দাবি, স্থায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত মার্কেটগুলোতে দোকানের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার হলেও এর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পাইকারি বেপারীসহ প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা।
শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়। মার্কেট ছাড়ার বিষয়ে মাইকিং করায় ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় এবং ক্রেতারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান তারা। এ ধরনের উদ্যোগ ও মাইকিংয়ের তীব্র নিন্দাও জানান ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা কয়েক দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ; যানজট নিরসনে পেট্রোবাংলা থেকে জনতা টাওয়ার পর্যন্ত সড়ক এবং ভিআইপি রোডের সংযোগ সড়কগুলো—মসজিদের উত্তর গেট, ওয়াসা, ইত্তেফাক ও হোটেল লা ভিঞ্চির সামনের সড়ক—অবৈধ দখলমুক্ত করে যান চলাচল নিশ্চিত করা; এবং কারওয়ান বাজারের মধ্যেই উন্নত বিশ্বের আদলে একটি আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে স্থায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বর্তমান আয়তন ঠিক রেখে সেখানেই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ারও কথা জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন খান, দেলোয়ার হোসেন তালুকদার, আজাদ হোসেন খান, বেলায়েত হোসাইন, ফিরোজ আলম, আবু বকর সিদ্দিক, হাজি মো. জহিরুল ইসলাম, মো. মজিবুর রহমান ও সাইফুর রহমান চৌধুরীসহ ব্যবসায়ী নেতারা।
উল্লেখ্য, কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার স্থানান্তরের উদ্যোগ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে একাধিকবার এ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবারের সিদ্ধান্তে প্রাথমিকভাবে স্থায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত দোকানগুলোর পাশাপাশি একসনা বন্দোবস্তের দোকানগুলোও গাবতলীতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের আপত্তি ও পাল্টা প্রস্তাবের ধারাবাহিকতা এবারও অব্যাহত থাকল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।