বগুড়া থেকে প্রকাশিত অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।
রোববার (২১ জুন) সংগঠনটির আহ্বায়ক ও যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কাউন্সিল মনে করে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনে করা মামলায় এই সম্পাদককে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, এই মামলা করেছেন একজন সাংবাদিক, যার সঙ্গে অভিযোগের কোনো সম্পৃক্ততা থাকার কথা নয়। আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এমন একটি অস্বাভাবিক মামলায় নিম্ন আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারির আগেই পুলিশ সরাসরি তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনের এই প্রকার অপব্যবহার স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
এ ধরনের গ্রেপ্তারি তৎপরতা স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মনে ভীতি এবং সেলফ-সেন্সরশিপের জন্ম দেবে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়া সম্পাদককে যাতে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়।
‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কণ্ঠ রোধ করার যেকোনো অপচেষ্টাকে দেশের সম্পাদক ও সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। আমরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে দ্রুত ও সদ্বিবেচনামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল দেশের সব সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর পেশাগত নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব সময় সোচ্চার থাকবে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
এমবি