হোম > জাতীয়

ভারতে শাহবাগী ব্লগার সানিউর রহমান ওরফে সত্য সাধু গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা

বাংলাদেশের বিতর্কিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং তথাকথিত মুক্তচিন্তার অনুসারী সানিউর রহমানের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধমূলক সংবাদ নয় বরং এটি একজন ব্যক্তির আদর্শিক চরমপন্থা থেকে অন্য এক চরমপন্থায় রূপান্তরের এক বিস্ময়কর আখ্যান। সানিউর রহমানের এই যাত্রাপথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে- তসলিমা নাসরিন পরবর্তী প্রজন্মের যে ধারায় ইসলাম বিদ্বেষ বা উগ্র নাস্তিকতার চর্চা বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল তিনি ছিলেন সেই ধারারই এক সক্রিয় প্রতিনিধি। ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন পরবর্তী সময়ে যারা মুক্তচিন্তার আবরণে মূলত ইসলাম ধর্ম এবং মুসলিম সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছিলেন সানিউর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম। তবে তসলিমা নাসরিন বা সমসাময়িক অন্যান্য নির্বাসিত ব্লগারদের সঙ্গে সানিউরের মৌলিক পার্থক্য হলো তার সুবিধাবাদী রূপান্তর। তসলিমা নাসরিন বা অন্যান্যরা তাদের নাস্তিক্যবাদী বা ধর্মবিরোধী অবস্থানে অনড় থাকলেও সানিউর রহমান অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে নিজের পরিচয় বদলে ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী চেহারায় আত্মপ্রকাশ করেন যা তার আদর্শিক সততা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে।

২০১৬ সালে নেপাল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে সত্যনিষ্ঠা আর্য রাখেন এবং উত্তরখণ্ডের ঋষিকেশে সাধুর ছদ্মবেশ ধারণ করেন। এটি অত্যন্ত গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে যে একজন ব্যক্তি যিনি একসময় নিজেকে নাস্তিক বা যুক্তিবাদী হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি কীভাবে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আরেকটি ধর্মের কট্টরপন্থী প্রচারক হয়ে উঠলেন। এটি প্রমাণ করে যে তার আগের নাস্তিকতা কোনো দার্শনিক ভিত্তি থেকে আসেনি বরং সেটি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত এজেন্ডার অংশ যার মূল লক্ষ্য ছিল ইসলাম বিদ্বেষ। ভারতে গিয়ে তিনি যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী কার্যক্রম শুরু করেন এবং খ্রিস্টান বা মুসলিমদের ওপর চড়াও হন তা মূলত তার পূর্ববর্তী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেরই এক নতুন সংস্করণ। সেখানেও তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ এবং ঘৃণা ছড়ানোর মাধ্যমেই নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে চেয়েছিলেন যা গাজিয়াবাদের গির্জায় হামলার ঘটনায় স্পষ্ট হয়।

উত্তরাখণ্ড পুলিশের অপারেশন কালনামী অভিযানে তার গ্রেপ্তার হওয়া এবং তার কাছ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার হওয়া থেকে বোঝা যায় যে তিনি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আইনি ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন। ভারতের মতো একটি দেশে যেখানে বর্তমানে ধর্মীয় মেরুকরণ অত্যন্ত তীব্র সেখানে একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিজেকে হিন্দু পুরোহিত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারা এবং দীর্ঘকাল ধরা না পড়া সীমান্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারির দুর্বলতাকেও নির্দেশ করে। সানিউর রহমানের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে উগ্রবাদ কোনো ধর্মের একচেটিয়া সম্পত্তি নয় বরং ঘৃণা ও বিদ্বেষের যে কোনো একটি নির্দিষ্ট রূপ ধারণ করে একজন ব্যক্তি সহজেই এক চরমপন্থা থেকে অন্য চরমপন্থায় বিচরণ করতে পারে। এটি সমাজ ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা যে তথাকথিত মুক্তচিন্তা বা নাস্তিকতার আড়ালে অনেক সময় উগ্রবাদী ঘৃণা লুকিয়ে থাকে যা সুবিধামতো রঙ পরিবর্তন করে সমাজ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সানিউর রহমানের এই গ্রেপ্তার কেবল এক অপরাধীর ধরা পড়া নয় বরং এটি সেই সমস্ত স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী বা অ্যাক্টিভিস্টদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে যারা মূলত বিদ্বেষ প্রচারের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে সুবিধার জন্য এর আগে চলে এসে পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী হয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর (মতুয়া), কবিয়াল জগন্নাথ সরকার, নিশীথ প্রামাণিক প্রমুখ গেরুয়াবাদী নেতা৷

আরো ১৬৯৮ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

মনসুর আলী মেডিকেলের নতুন নাম সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী এমপিরা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব সাখাওয়াৎ হোসেন

যাত্রাবাড়ীতে ভবন থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু

এমপি হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে যা বলেছিলেন তাসনিম জারা

সংসদের কেনাকাটায় অনিয়ম তদন্তে হাসনাতসহ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লটের বিষয়ে যা বললেন চিফ হুইপ

সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ি চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

চীনের ‘ওয়ান চায়না পলিসি’তে মির্জা ফখরুলের সমর্থন