হোম > জাতীয়

প্লাস্টিক দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

যাত্রা শুরু করল ‘এনপিএপি বাংলাদেশ’

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পুনঃব্যবহার বাড়াতে হবে এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ (রিসাইক্লিং) ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা চক্রাকার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ’ (এনপিএপি) বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘চক্রাকার অর্থনীতির পথে সমন্বিত উদ্যোগ’।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এছাড়া ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের পরিচালক ক্লেমঁস শ্মিড (ভিডিও বার্তার মাধ্যমে) অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক দূষণ আমাদের নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী, জলাভূমি, উপকূলীয় এলাকা, জনস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক উৎপাদন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উৎপাদনের পর ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই নীতিমালার সঠিক সুফল পেতে এর কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য নির্ভরযোগ্য ডেটা বা তথ্য, উৎপাদক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

এনপিএপি বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটি দেশের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে একত্রিত করতে, নীতির সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের সংযোগ ঘটাতে, উদ্ভাবকদের বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিনিয়োগকে সমন্বয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকার এতে নেতৃত্ব দিলেও সংশ্লিষ্ট সব খাতের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এনপিএপি বাংলাদেশ’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদার এবং প্লাস্টিক সার্কুলার অর্থনীতিতে উত্তরণ ত্বরান্বিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল এই প্ল্যাটফর্ম। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। প্লাস্টিকের উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহার, সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে ২৫টি দেশের এই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করবে এনপিএপি বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস্তবসম্মত সমাধান ও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পরিবেশমন্ত্রী। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তি শক্তিশালী করতে, উন্নয়ন সহযোগীদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে কার্যক্রম সমন্বয় করতে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চক্রাকার অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের তাগিদ দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এনপিএপির সাফল্য কেবল সভার সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না, বরং এর বাস্তব ফলাফল দিয়ে তা মূল্যায়ন করতে হবে। নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্যকর্মীদের জীবনমান ও অবস্থার উন্নতিই হবে এর আসল মাপকাঠি।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ বলেন, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব কেবল ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ড্রেন ও নালা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং নদীর মাধ্যমে একসময় সাগরে গিয়ে পৌঁছায়। এছাড়া প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য খোলা স্থানে পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ক্ষতিকর কণা ও বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে মিশে স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মীদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। এ সময় তিনি পরিবার থেকেই বর্জ্য আলাদা করার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম. আসাদুজ্জামানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবিদরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সরদারের সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল ডিসকাশনে বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টি যুক্ত করা হলে এর কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে স্কুলভিত্তিক ক্যাম্পেইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন আলোচকরা। আলোচনায় অংশ নেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রেজাউল করিম, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব পরিমল সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রাজিনারা বেগম, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সাস্টেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান সুমাইয়া টি. আহমেদ, কোকা-কোলা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব আহমেদ খান এবং বাংলাদেশ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের (বিপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাদেম মাহমুদ ইউসুফ।

আট মাসে চাকরি নিয়ে বিদেশ গেছে সাড়ে ৪ লাখ রেমিট্যান্স যোদ্ধা, আয় ২৬ বিলিয়ন ডলার

ড. ইউনূসকে হেনস্তার তীব্র নিন্দা অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উপদেষ্টার

৮২ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৩ হাজার যাত্রী

কাজের ভিসার নামে মালয়েশিয়ায় নিয়ে জিম্মি, ট্রাভেল এজেন্সির মালিক গ্রেপ্তার

প্রবাসীদের আইনি সমস্যা সমাধানে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা

৩৫ বছরের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকছে না: আইনমন্ত্রী

বিমানবাহিনীর এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া সম্পন্ন

সংবাদপত্রের সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ

রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

সৌদিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী