গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে দলীয় আনুগত্যের পরীক্ষায় পরিণত না করা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের অপব্যাখ্যা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ৫৭ জন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে তারা এ বিষয়ে চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে এর প্রয়োগ শুধু অর্থবিল ও অনাস্থা ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ও ৩১ দফায় দেওয়া অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে ৭০ অনুচ্ছেদের বর্তমান আওতা বাড়িয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রয়োগের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
নেতারা আরো দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রযোজ্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সুস্পষ্ট, নিরপেক্ষ ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। সেই ব্যাখ্যা ভোটার ও দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করারও দাবি জানান তারা।
এছাড়া ত্রয়োদশ সংসদের সব সদস্যকে দলীয় চাপ, ভয় ও আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক বিবেক, স্বাধীন বিচারবোধ এবং প্রজাতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি কোনো দলের রাষ্ট্রপতি নন; তিনি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি।’ ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় আনুগত্যকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদের নিরপেক্ষতা, মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্যের সাংবিধানিক ধারণাকে দুর্বল করবে বলে তারা মনে করেন।
তাদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে দলীয় আনুগত্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় পরিণত করা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী। রাষ্ট্রপতির পদকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে এর সাংবিধানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ূম, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মো. আবুল বাশার, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) ফেরদৌস আরা রুমী, সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, মাওলানা মুত্তাকী বিন মনির, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের শেখ নাসিরউদ্দিন এবং জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) নাঈম আহমাদসহ অন্যরা।