চলতি বছরে তীব্র গরমের শঙ্কা
বছরের শীতলতম মাসেও আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপাত্ত বিশ্লেষণে জানা যায়, বর্তমানে দিনের যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে, তা স্বাভাবিকের চেয়েও চার থেকে পাঁচ ডিগ্রির মতো বেশি।
বায়ুদূষণসহ সার্বিকভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্লেষকদের শঙ্কা চলতি বছরের গরম আবহাওয়া অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেও এবার তাপমাত্রা বাড়বে। এছাড়া দেশে তীব্র গরমের আশঙ্কা আছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশকে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সারা দেশের মধ্যে টেকনাফে সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং রাজধানীতে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো বেশি । এটা মূলত বায়ুদূষণের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ক্লাইমেট চেঞ্জের প্রভাবেই হচ্ছে।
তবে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, কয়েকদিন আগে বঙ্গোপসাগরে যে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে হঠাৎ তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহও নেই; আবার তাপমাত্রা কমারও তেমন কোনো লক্ষণ নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ এসএম কামরুল হাসান। তিনি আমার দেশকে বলেন, তিন বছর ধরেই বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। সেটার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।
কামরুল হাসান বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর দিন এবং রাতের তাপমাত্রায় খুব কম পার্থক্য ছিল, যা ৭৩ বছরের রেকর্ড অনুসারে অস্বাভাবিক । দিনের তাপমাত্রা এখন স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ডিগ্রি বেশি বিরাজ করছে। এটাকে স্বাভাবিক আবহাওয়া বলা যাচ্ছে না।