হোম > জাতীয়

টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতিতে ভোগান্তিতে রোগীরা

স্টাফ রিপোর্টার

দশম গ্রেডের দাবিতে পূর্ব নির্ধারিত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন সারা দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সব ধরনের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। ডাক্তার দেখাতে পারলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, করতে পারছেন না, পাচ্ছেন না ওষুধ।

রোববার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর চারটি হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র ঘুরে এমন ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে।

হাসপাতালগুলো ঘুরে জানা যায়, সকাল ৮টায় প্রতিদিনের ন্যায় বহির্বিভাগে সেবা প্রদান থেকে শুরু পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রক্ত পরিসঞ্চালন শুরু হয়। এর এক ঘণ্টা পর কর্মবিরতি শুরু করেন টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এ সময় কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তবে জরুরি বিভাগে সেবা দেয়ার পাশাপাশি বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেখা গেছে।

থাইরয়েডের সমস্যা নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন সাবিনা বেগম (৩৫)। সকাল সাড়ে ৮টায় ডাক্তার দেখাতে পারলেও ওষুধ নিতে নিতে গিয়ে দেখেন ওষুধ দেয়া বন্ধ রয়েছে। সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত তাকে হাসপাতালের ফার্মেসির সামনে কোলের শিশুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

অন্যদিকে ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতা নিয়ে একই হাসপাতালে এসেছেন মিরপুরের বাসিন্দা খালেক চৌধুরী (৫২)। সিবিসিসহ বেশ কিছু পরীক্ষা দিয়েছেন চিকিৎসক। কিন্তু পরীক্ষা করতে না পেরে প্যাথলজি বিভাগের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

খালেক চৌধুরী বলেন, ‘বয়স্ক মানুষ, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনা। সকালে কাজ ফেলে এসেছি দ্রুত যাতে ফিরতে পারি। কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারলেও টেস্ট করাতে পারছিনা। ১ ঘণ্টা ধরে বসে আছি, কখন শুরু করবে জানিনা।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ সেহাব উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, ‘কিছু দাবি নিয়ে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা আন্দোলন করছে। তারা স্মারকলিপিও দিয়েছে। কিন্তু বিষয়টির সমাধান আমাদের হাতে নেই, মন্ত্রণালয়ের নিযন্ত্রণে সারা দেশেই কর্মবিরতি করছে তারা। ফলে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে। তবে জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু রয়েছে।’

একই চিত্র দেখা যায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। এখানেও প্যাথলজি বিভাগসহ প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। তবে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ক্যাজুয়াল্টি সার্ভিসের (ওসেক) আওতায় থাকা সবধরনের ইসিজিসহ বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু রয়েছে বলে জানান দায়িত্বরত একজন নার্স।

এ সময় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমট্যাব) মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব বলেন, আমাদের দাবি যৌক্তিক সেটি স্বাস্থ্যন্ত্রণালয়ও জানে। আমরা দেখেছি অন্যান্য সেক্টরের ডিপ্লোমাধারীদের দশম গ্রেড দিলেও আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও বঞ্চিত। সরকার বার বার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন করেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা থাকলেও শুধুমাত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছার অভাবে আটকে আছে। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা রোগীরদের কষ্ট দিতে চাইনা ৷ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ঠেলে সরকার আমাদের দাবি দাওয়া পূরণে আজই নিশ্চয়তা দিক, আমরা কর্মসূচি থেকে সরে যাবো

দুর্ভোগ দেখা গেছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানেও (নিটোর)। দুর্ঘটনায় আহতদের বিশেষায়িত এ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতির কারণে এক্স-রেসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের। প্রতিদিন ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থাকা আসা দেড় হাজার মানুষের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় এখানে। কিন্তু টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের।

বুকে ব্যথাসহ নানা জটিলতা নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) যান মুশফিকুল আলম (৩৪)। প্রতিষ্ঠানটিতে অধিকাংশ পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও রক্ত পরীক্ষা করতে পাঠানো হয় ল্যাবরেটরি অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে। কিন্তু দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও পরীক্ষা করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মুশফিকুল আলম বলেন, শত শত মানুষ এখানে অপেক্ষা করছে। অনেক বয়স্ক মানুষও রয়েছেন। এ ভোগান্তির শেষ কখন হবে জানিনা।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরামের (এমটিএফ) সভাপতি মো. সোহেল রানা বলেন, আমরা সরকারকে বিতর্কিত করতে চাইনা। কিন্তু আমরা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্যই দাবি জানিয়ে এসেছি। সরকার বার বার কথা দিয়েও বাস্তবায়ন করেনি। আমাদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। রোগীরা ভুগছেন, তাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আমরা এমন কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছি

তিনি আরও বলেন, টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড এখন পর্যন্ত না হওয়ার পেছনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো দায় নেই। তারা যৌক্তিকতা উল্লেখ করে একাধিকবার সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যথেষ্ট সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকার রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা আরও মানসম্মত করতে হলে শিফট বাড়াতে হবে। সকালের পাশাপাশি বিকেল ও রাতের শিফট চালু করতে হবে। যেখানে বড় ভূমিকা রাখবে টেকনোলজিস্টরা। সেখানে আমরা যদি মর্যাদা না পাই তাহলে কোনোকিছুই হবেনা। আমরা আজ ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করছি, এরপরও সরকার ব্যবস্থা না নিলে দুদিন পর আমরা অর্ধদিবস এরপর পূর্ণ শাটডাউনে যেতে বাধ্য হবো। তাই আশা করছি সরকারের শুভবুদ্ধির উদায় হবে, আমাদের দাবি ওনারা মেনে নেবেন। না হলে আমরা চাকরি ছেড়ে দবে।

৯ জেলায় ম্যালেরিয়া সংক্রমণ, উচ্চ ঝুঁকিতে ৩ জেলা

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ৯২১৯৬ প্রবাসীর নিবন্ধন

ম্যালেরিয়াবাহী মশার পেটে ৩১০ কোটি টাকা, সুখবর নেই নির্মূলে

ন্যায়বিচার নির্ভর করে বিচারকের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর

এখনো সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া, উদ্বিগ্ন দেশবাসী

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

রাষ্ট্রসংস্কার কী সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকাবুলি—প্রশ্ন টিআইবির

সৃষ্টিকর্তার কৃপায় খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন: অপর্ণা রায়

খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনা করেছেন সাইফুল হক

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব না পড়লেও বাধাগ্রস্ত করছে শীতের আগমনে